ওয়েব ডেস্ক: অন্য এক পুরুষকে ‘কিস’ বা চুম্বনের ইমোজি পাঠানোর অভিযোগকে ঘিরে বিবাহবিচ্ছেদ মামলায় (Divorce Case Filed) গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir) এবং লাদাখ হাইকোর্ট (Ladakh High Court)। পারিবারিক আদালতের নির্ধারিত একটি প্রশ্ন বাদ দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিল হাইকোর্ট।
মামলার সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ১৩ ধারায় বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। স্বামীর অভিযোগ, তাঁর চিকিৎসক স্ত্রী অন্য এক পুরুষ চিকিৎসককে চুমুর ইমোজি পাঠিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই জম্মুর পারিবারিক আদালত মামলার শুনানির জন্য কয়েকটি বিষয় বা ‘ইস্যু’ নির্ধারণ করে। এর মধ্যে একটি ছিল, স্বামী সত্যিই স্ত্রীকে ওই ইমোজি পাঠাতে হাতে-নাতে ধরেছিলেন কি না।
আরও পড়ুন: আন্নামালাইয়ের হাত ছাড়ল বিজেপি! এবার দাক্ষিণাত্যে পদ্ম শিবিরের মুখ কে হবেন? শুরু জল্পনা
এই প্রশ্নটি মামলার বিষয়বস্তু থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেন স্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, এমন প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক এবং তা রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। তবে পারিবারিক আদালত সেই আবেদন খারিজ করে। পরবর্তীতে বিষয়টি হাইকোর্টে পৌঁছলে বিচারপতি রাহুল ভারতী পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচার চলাকালীন ওই প্রশ্নটি নথিতে থাকলে আবেদনকারীর কোনও ক্ষতি হবে না।
বিচারপতি বলেন, “চুম্বনের ইমোজি সংক্রান্ত বিষয়টি আবেদনকারীর ক্ষতি করছে না। কারণ, শেষ পর্যন্ত বিবাদী তথা স্বামীকেই তাঁর আনা দাম্পত্য নিষ্ঠুরতার অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে এবং বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার জন্য আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।”
হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে জানায়, কোনও অভিযোগ সত্য কি মিথ্যা, তা প্রমাণের বিষয় বিচারপর্বে নির্ধারিত হবে। শুধুমাত্র প্রশ্নটি মামলার অংশ হওয়ায় তা পক্ষবিশেষের বিরুদ্ধে রায় বলে গণ্য করা যায় না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ডিজিটাল যোগাযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া ও ইমোজির মতো আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় কীভাবে বিচারিক আলোচনার অংশ হতে পারে, সেই দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
