কলকাতা: রাজ্যে সব সাংগঠনিক কমিটি (Organizing Committee) ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতেই কি এই পদক্ষেপ করল দলীয় নেতৃত্ব? অনেকের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভরাডুবি এবং তার পর দল ছাড়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
বুধবার দুপুরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, সব দিক বিচার-বিবেচনা করেই পশ্চিমবঙ্গে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোস্টে বলা হয়েছে, “সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দল নিবিড় পর্যালোচনা ও সাংগঠনিক মূল্যায়নের পথে হাঁটবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানো হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে পরে জানানো হবে।”
আরও পড়ুন: আজই ঢুকবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা? বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
এদিকে একই দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানিয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন বিদ্রোহী বিধায়কেরা। ওই চিঠিতে ঋতব্রত ছাড়াও মোট ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু বিরোধী দলনেতার নাম নয়, বিধানসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নামও ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহাকে উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নামও সুপারিশ করা হয়েছে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন বলে সূত্রের খবর।
তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে অন্য একটি বিষয়ও। বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া ওই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দলের অন্দরে সংঘাত চরমে পৌঁছলেও নেতৃত্বের প্রশ্নে এখনও পুরোপুরি বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
দেখুন আরও খবর:
