কলকাতা: সোনারপুরে বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগের জেরে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলীয় সূত্রের দাবি, গোটা ঘটনা নিয়ে তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লিখিতভাবে জানাবেন। একইসঙ্গে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছে তৃণমূল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একজন নির্বাচিত সাংসদের উপর হামলার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই ঘটনার সমস্ত তথ্য, অভিযোগ এবং প্রমাণ স্পিকারের কাছে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতে আবেদন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিআইডি-র তলবে অনুপস্থিত অভিষেক
গত শনিবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক। নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। ডিম, জুতো ও পাথর ছোড়ার পাশাপাশি ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। তৃণমূলের দাবি, সেই ঘটনায় তাঁর জামা ছিঁড়ে যায় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন তিনি।
ঘটনার পর অভিষেককে কলকাতার দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, গুরুতর কোনও আঘাতের প্রমাণ মেলেনি এবং তাঁকে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি। যদিও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপে হাসপাতালগুলি তাঁকে ভর্তি নেয়নি।
এদিকে ঘটনার জেরে দেশজুড়ে বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতার প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মমতা। পরে সামাজিক মাধ্যমে রাহুলকে ধন্যবাদও জানান অভিষেক।
হামলার পর এক্স (X)-এ পোস্ট করে অভিষেক লেখেন, “নীতি বিসর্জন দিয়ে আরামে থাকার চেয়ে আমি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে ভয়ভীতি সহ্য করতেই রাজি। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, মানুষের ইচ্ছাই চিরস্থায়ী। আমি শুধু মানুষের কাছেই মাথা নত করব।”
