কলকাতা: সোনারপুরে বিক্ষোভ ও হেনস্তার ঘটনার (Sonarpur Incident) ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি। তার মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এত দিন দু’জন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও, এখন থেকে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সর্বক্ষণ থাকবেন তিন জন নিরাপত্তাকর্মী।
শনিবার বিকেলে সোনারপুরে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। অভিযোগ, তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ডিম ও ইটের টুকরো ছোড়া হয়। ‘চোর’ স্লোগানও ওঠে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, পুলিশি নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে আনতে হয়।
আরও পড়ুন: স্যালাইন-অক্সিজেনে আপাতত বাড়িতেই অভিষেক, ভাইপোর চিকিৎসা নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে অভিষেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। সেই আবহেই শনিবার রাতেই বড় সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সরকার সূত্রের খবর, অভিষেককে ‘এক্স’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে তাঁর নিরাপত্তা বলয়ে আরও এক জন রক্ষী যুক্ত হচ্ছেন।
রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ নন, তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হিসেবেও পরিচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর দলের অন্যতম মুখ তিনি। তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁর জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার বন্দোবস্ত ছিল। বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন থেকে শুরু করে যাতায়াতের সময় বিশেষ নিরাপত্তা বলয়, সবই ছিল সেই ব্যবস্থার অংশ।
কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিও পাল্টায়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জনপ্রতিনিধি ও ভিআইপিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পরই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়। সরকার জানায়, একজন সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা প্রাপ্য, তাঁকে সেটুকুই দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী গত কয়েক মাস ধরে দু’জন নিরাপত্তারক্ষীই ছিলেন তাঁর সঙ্গে।
তবে সোনারপুরের ঘটনার পর সেই অবস্থান থেকে সরে এল প্রশাসন। নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি হামলার অভিযোগে তদন্তও শুরু হয়েছে জোরকদমে। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় জড়িত আরও কয়েক জনের পরিচয় মিলেছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সোনারপুরের ঘটনার পর একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে বিরোধী রাজনীতির নামে হিংসার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। সেই আবহেই অভিষেকের নিরাপত্তা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
