কলকাতা: সোনারপুরে বিক্ষোভের (Sonarpur Incident) মুখে পড়ার পর দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। ভর্তি না নেওয়ায় বিজেপি (BJP) সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে সেই অভিযোগ খারিজ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সোনারপুরে বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শনিবার রাতে তাঁকে শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কোথাও ভর্তি করা হয়নি। এরপরই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ, রাতভর তল্লাশির পর গ্রেফতার ৬!
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক চাপে অভিষেককে ভর্তি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি জানান, আপাতত বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলবে। প্রয়োজন হলে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ,
“অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যাতে ভর্তি করা না হয়, তার জন্য হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে।” বেলভিউ হাসপাতালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “আইটিইউতে নিয়ে যাওয়া হল, টেস্ট করা হল। আমি হাসপাতালের শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে বসেছিলাম। তারপর একটি ফোন এল। পরে আর ভর্তি করা হল না।”
যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি তৃণমূল নেত্রী। অভিষেকের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে মমতা বলেন, “আপাতত বাড়িতেই চিকিৎসা হবে। স্যালাইন, অক্সিজেন যা প্রয়োজন, সব বাড়িতেই দেওয়া হবে। দরকার হলে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি রাজ্যের বাইরে চিকিৎসার পথেই হাঁটতে পারে তৃণমূল নেতৃত্ব?
মমতার অভিযোগ অবশ্য সরাসরি নস্যাৎ করেছে বেলভিউ হাসপাতাল। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে গুরুতর কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বুকে সামান্য ছড়ে যাওয়ার দাগ থাকলেও তা উদ্বেগজনক নয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওষুধ দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, ভর্তি করার মতো কোনও শারীরিক জটিলতা ছিল না বলেই হাসপাতালে রাখার প্রয়োজন হয়নি।
উল্লেখ্য, শনিবার এক মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখানে তিনি বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, পাথর ও ইটের টুকরো ছোড়া হয়। ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি তৃণমূলের। পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে প্রথমে ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে মিন্টো পার্কের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে দু’জায়গাতেই চিকিৎসকদের মত ছিল, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল এবং ভর্তি করার প্রয়োজন নেই।
