কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকার গঠনের পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই বিজেপি বিরোধী শক্তিকে এক মঞ্চে আনার ডাক দিলেন তৃণমূল (TMC) নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে নিজের বাড়ির সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বাম, অতিবাম-সহ সমস্ত বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের (INDIA Alliance) ধাঁচে রাজ্যেও যৌথ আন্দোলনের বার্তা দেন তিনি।
তবে মমতার এই প্রস্তাব কার্যত উড়িয়ে দিল সিপিএম। লিখিত বিবৃতিতে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (MD Selim) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “না। একদম না।”
সিপিএমের তরফে ফেসবুকে পোস্ট করে বলা হয়েছে, “অপরাধী, তোলাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত, সাম্প্রদায়িক পরিচয় আছে এমন কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের নিশানায় সরাসরি তৃণমূল। পোস্টটি শেয়ার করে সিপিএমের যুব নেতৃত্বও সেলিমের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
শুধু সিপিএম নয়, তৃণমূল নেত্রীর এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন টিএমপিসি নেতা সুপ্রিয় চন্দও। বিজেপি বিরোধিতার নামে বামেদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটার বিরোধিতা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী অবস্থানে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারকে হটাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল তৃণমূল। আবার ২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই বামেদেরই পাশে চাইছেন তিনি। এমনকি অতিবাম দলগুলিকেও একমঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
কিন্তু সিপিএম নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিজেপি বিরোধিতার জন্য তারা তৃণমূলের হাত ধরতে রাজি নয়। সেলিমের বক্তব্য, দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অপরাধের অভিযোগে জর্জরিত তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার প্রশ্নই নেই। ফলে আপাতত বাংলার বিরোধী রাজনীতিতে মমতার ‘মহাজোট’ ভাবনায় জল ঢেলে দিল আলিমুদ্দিন।
