11.5 C
New York

গেরুয়া আলোয় সেজেছে মহাকরণ! বিপ্লব, ব্রিটিশ রাজ আর বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের নীরব সাক্ষী রাইটার্স বিল্ডিং

Must Read

কলকাতা: ডালহৌসি (Dalhousie) চত্বরের লালদিঘির পাড়ে আজও মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহাসিক লাল ইমারত। আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলার রাজনৈতিক উত্থান-পতন, ব্রিটিশ শাসনের দাপট থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তাক্ত অধ্যায়, সব কিছুরই নীরব সাক্ষী রাইটার্স বিল্ডিংস। যা আজকের মহাকরণ (Mahakaran)। এবার সেই ঐতিহ্যবাহী ভবনই নতুন করে চর্চায়। কারণ, দীর্ঘদিন পর ফের আলোয় ফিরেছে বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপত্য।

সম্প্রতি মহাকরণ সেজে উঠেছে গেরুয়া রঙের আলোকসজ্জায়। রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এই পরিবর্তন ঘিরে জল্পনাও তুঙ্গে। ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থানান্তরিত হয় হাওড়ার নবান্নে। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যায় রাইটার্সের কর্মচাঞ্চল্য। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফের এই ভবনকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নতুন রঙের প্রলেপ, সংস্কারের ছোঁয়া আর গেরুয়া আলো যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন অধ্যায়ের।

আরও পড়ুন: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব, চিফ হুইপ ফিরহাদ হাকিম

তবে রাইটার্স বিল্ডিং শুধুই একটি প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রতীক। বিশেষত বামফ্রন্ট আমলে এই ভবনই ছিল রাজ্যশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই ভবনের অন্দরেই। জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মহাকরণের অলিন্দেই প্রতিধ্বনিত হতো বাংলার বাম রাজনীতির মূল সুর।

এই ভবনের ইতিহাস আরও পুরনো। ১৭৭০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইউরোপীয় কেরানিদের থাকার জন্য স্থপতি টমাস লিয়ন্সের নকশায় তৈরি হয় এই ইমারত। প্রায় ১৭ বিঘা জমির উপর তৈরি হয়েছিল উনিশটি পৃথক অ্যাপার্টমেন্ট। সেই সময় কলকাতার প্রথম তিনতলা ভবন হিসেবেও পরিচিতি পায় এটি। গথিক ও করিন্থীয় স্থাপত্যশৈলীর সংমিশ্রণে তৈরি এই ভবন পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে ব্রিটিশ প্রশাসনের অন্যতম কেন্দ্র।

‘রাইটার্স বিল্ডিং’ নামটির পিছনেও রয়েছে ইতিহাস। আঠারো শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেব কেরানিদের বলা হতো ‘রাইটার’। তাঁরা খাগের কলমে সরকারি নথি ও দলিলের প্রতিলিপি তৈরি করতেন। তাঁদের আবাসন ও কর্মস্থল হিসেবেই ভবনের নাম হয় ‘রাইটার্স বিল্ডিং’। পরে ১৮০০ সালের পর থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ভবনে পরিণত হয়।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসেও রাইটার্সের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা। ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত ব্রিটিশ অত্যাচারের প্রতীক কুখ্যাত আইজি কর্নেল এন.এস. সিম্পসনকে হত্যা করতে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে অভিযান চালান। ইউরোপীয় পোশাকে সজ্জিত তিন তরুণ বিপ্লবী ভবনের ভিতরে ঢুকে সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর রাইটার্সের অলিন্দে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ। আত্মসমর্পণের বদলে বাদল সায়ানাইড খেয়ে আত্মবলিদান দেন, বিনয় ও দীনেশ নিজেদের গুলি করেন। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় বিনয়ের। দীনেশকে ফাঁসি দেয় ব্রিটিশ সরকার।

আজ তাঁদের স্মরণেই ডালহৌসি স্কোয়ারের নাম হয়েছে বি.বি.ডি. বাগ- বিনয়, বাদল, দীনেশের নামে। রাইটার্সের সামনে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে তাঁদের স্মারক মূর্তি, যা স্বাধীনতার লড়াইয়ের এক অমর প্রতীক।

এখন প্রশ্ন একটাই, বাংলার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে কি ফের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠবে মহাকরণ? যদি তা-ই হয়, তবে দীর্ঘদিনের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের ঐতিহাসিক করিডোর।

Latest News

৭০-এর বেশি মানুষকে হত্যা, দায় স্বীকার আল-কায়দার

ওয়েব ডেস্ক : মধ্য-পশ্চিম আফ্রিকায় (Africa) বেশ কিছু সময়ে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলাতে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭০...

More Articles Like This