16.5 C
New York

রাইটার্সের তিনতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘর? জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে লালবাড়িতে…

Must Read

কলকাতা: নবান্ন (Nabanna) নয়, নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম ফের শুরু হতে পারে ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিংস (Writers’ Building) থেকেই। ভোটপর্বের আগেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছিল বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। কিন্তু বাস্তবের ছবিটা এখনও অনেকটাই অস্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংস্কারের কাজ এখনও শেষ হয়নি মহাকরণের (Mahakaran)। তবু তার মধ্যেই নতুন মন্ত্রীসভার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে লালবাড়ির অন্দরে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাইটার্স বিল্ডিংসের ভিভিআইপি ব্লকের তিনতলায় দ্রুত গতিতে তৈরি করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য দফতর। বৃহস্পতিবার মহাকরণে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ওই অংশের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। বসেছে ঝকঝকে মার্বেল, প্রায় সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ। শেষ মুহূর্তের ইন্টিরিয়র ডেকরেশনে ব্যস্ত পূর্ত দফতরের কর্মীরা। লক্ষ্য একটাই। শপথ গ্রহণের আগেই মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর বসার মতো পরিবেশ তৈরি করা।

আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা, আজ কেমন থাকবে আবহাওয়া?

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক সদর ছিল এই রাইটার্স বিল্ডিংস। সেই সময় পর্যন্ত দোতলার যে ঐতিহাসিক কক্ষে বসতেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অতীতে সেই ঘর থেকেই প্রশাসন সামলেছেন জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো মুখ্যমন্ত্রীরাও। তবে দোতলার সংস্কারের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় আপাতত তার ঠিক উপরের তৃতীয় তলার ঘরটিকেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “শনিবার সকালের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রীর ঘর তৈরি হয়ে যাবে। তবে সেখান থেকেই তাঁরা কাজ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার।”

রাইটার্সের ভিভিআইপি ব্লকে ইতিমধ্যেই চারটির মধ্যে তিনটি নতুন লিফট বসানো হয়েছে। মহাকরণের প্রধান প্রবেশপথ সেন্ট্রাল গেটের সামনের মার্বেল বসানো ও পালিশের কাজও প্রায় শেষের পথে। যদিও এখনও স্পর্শ পড়েনি বহু ঐতিহ্যবাহী অংশে। প্রাচীন রোটান্ডা কিংবা ঐতিহাসিক ক্যাবিনেট রুম এখনও সংস্কারের অপেক্ষায়। করিডরের একাংশ আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে, কারণ তার পরের অংশ এখনও ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

সূত্রের খবর, ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে মহাকরণে আসতে পারেন। সেখান থেকে তাঁর যাওয়ার কথা বিধানসভা ভবনে, যেখানে হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় বা সিএমও-র আধিকারিকদের আপাতত বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে বসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিধানসভার প্ল্যাটিনাম বিল্ডিংয়েও কয়েকজন মন্ত্রীর বসার বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নবান্নে প্রশাসনিক সদর সরিয়ে নেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ১০ বছরের মধ্যে সংস্কার শেষ করে সচিবালয় ফের রাইটার্সে ফিরবে। কিন্তু সাড়ে ১২ বছর কেটে গেলেও এখনও পুরো সংস্কারের অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। পূর্ত দপ্তরের এক কর্তার কথায়, “কোভিডের আগেই মূলত আর্থিক সঙ্কটের কারণে কাজের গতি অনেকটাই কমে যায়। তবে এখন নতুন করে গতি আনা হয়েছে। ভিভিআইপি ব্লকের পুরো কাজ শেষ করতে আরও আট থেকে দশ মাস সময় লাগতে পারে।” ঐতিহ্য আর প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রতীক রাইটার্স বিল্ডিংস কি আবারও বাংলার শাসনকেন্দ্র হয়ে উঠবে? এখন সেই উত্তরই খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।

Latest News

শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন বালি শিল্পী সুদর্শনের

ওয়েব ডেস্ক : ছাব্বিশের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি (BJP)। ২০৭টি আসন পেয়েছে তারা। এর...

More Articles Like This