কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।ছাব্বিশের ভোটে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, ‘‘আমরা হারিনি। ১০০টা আসন লুট করে নেওয়া হয়েছে। কমিশনই ভিলেন।’’মমতা জানান, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শক্তি বৃদ্ধি করবেন তিনি। সকল বিরোধী নেতৃত্ব তাঁকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন। মমতা অভিযোগ, ‘‘সাখাওয়াতে আমার এজেন্টদেরও ঢুকতে দেয়নি। ভিতরে ওরা আমার পেটে লাথি মেরেছে, পিছনে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি বন্ধ ছিল।’’আমাদের কাছে নির্বাচিত অনেক সদস্য রয়েছেন। সকলে আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন।এমনি জিতলে কোনও অভিযোগ থাকত না। হার-জিত থাকেই। কিন্তু তা হয়নি। আমরা হারিনি। ওরা লুট করেছে।
দু’শোর বেশি আসন নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। কিন্তু এই হার ঠিক হার নয় বলে ফলপ্রকাশের পরেরদিন দাবি করলেন তৃণমূলনেত্রী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটের কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বললেন, ”আমরা তো হারিনি। জোর করে মিথ্যা বলে অত্যাচার করে হারিয়েছে।গণনাকেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়া, ফর্ম ১৭সি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওরা এমনি জিতলে আমার কিছু বলার থাকত না। নির্বাচনে তো হারজিত আছে। কিন্তু আমরা হারিনি। ইস্তফা কেন দেব? কেউ যদি জোর করে ইস্তফা দিতে, আমি বলব, না এটা হবে না। এখানে বিজেপির কথায় কমিশন খেলেছে সরাসরি।”কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘অত্যাচার’ নিয়ে সরব হয়েছেন। মঙ্গলবারও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমও দেখাতে শুরু করল বিজেপি জিতছে। ৩-৪ রাউন্ড পর থেকেই আমাদের ছেলেদের উপর অত্যাচার শুরু করল। মেরেছে, মেয়েদেরও ছাড়েনি।তাঁর আরও অভিযোগ, ‘‘আমি ভিতরে ঢুকলে আমার পেটে মারে, ম্যানহ্যান্ডেল করে। ধাক্কা দিয়ে মারতে মারতে বের করে দিল।
আরও পড়ুন: ডিসিপি শান্তনু সিনহার বিরুদ্ধে ‘লুক আউট’ নোটিস জারি ইডির
এই নির্বাচন পর্বকে ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ বলে চিহ্নিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে।আমরা বাঘের মতো লড়াই করেছি। আমার দলের কর্মীদের অনেকে বিজেপিতে যোগ দেবে জানি। কারণ বাঁচতে হবে।তিনি আরও বলেন, সিআরপিএফ গুণ্ডা র মতো আচরণ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এরকম ব্যবহার করতে পারে, কোনওদিন ভাবতে পারিনি-দেখিনি। এই অত্যাচার যদি চলতে থাকে,তাহলে খুব শীঘ্রই ওদের মুখোশ খুলে যাবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ,বেলেঘাটাতে একজনকে মেরে ফেলেছে। মহিলাদের রেপের হুমকি দিচ্ছে। ভুল মেসেজ পৌঁছাচ্ছে বিশ্বের কাছে যে তোমরা গণতান্ত্রিক ভাবে লড়োনি। মা মাটি মানুষ কে ধন্যবাদ । ওনারা ভোট দিয়েছিলেন। আমরা সেই ভোট রক্ষা করতে পারিনি।মমতা হুঙ্কার দিয়ে বলেন, মহিলা হিসাবে আমি অপমানিত। আমার সঙ্গেই এটা হল, তা হলে অন্যদের কী ভাবে অত্যাচারিত হতে হচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে। দল কর্মীদের পাশে আছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। ঘুরে দাঁড়াব।
