ওয়েবডেস্ক- গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গোটা দেশকে কাঁদিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গ (Zubeen Garg ) । সুনামির মতো বিনোদনজগতে শোক আছড়ে পড়ে। সিঙ্গাপুরে (Singapore) গানের কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে স্কুবা ডাইভে অংশ নিতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় জুবিনের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্যা দানা বাঁধে। অসমের ভূমিপুত্রের এই অকালপ্রয়াণে ষড়যন্ত্রের আঁচ পেয়েছিল অসম (Assam Government) ।
পঁচিশ সালের সেপ্টেম্বরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার (Assam Chief Minister Himanta Biswa Sarma) নির্দেশে জুবিন গর্গের মৃত্যু তদন্তে সিট গঠন করে অসম সরকার। অভিযোগে তালিকায় জুবিন ঘনিষ্ঠদের নাম আসে, সেই তালিকায় তার ম্যানেজারের নামও। জুবিন গর্গের মৃত্যু মামলায় গুয়াহাটির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (Guwahati Fast Track Court) জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার (Manager Siddharth Sharma) মালিকানাধীন ‘মহাবীর অ্যাকুয়া’র সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের মতে, এমন কিছু নথি উপস্থাপন করা হয়েছে, যা থেকে বৃহৎ পরিসরে অর্থ আত্মসাৎ, তহবিল স্থানান্তর এবং কালো টাকা সাদা করার প্রমাণ সামনে এসেছে। সিদ্ধার্থ শর্মার নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া অর্থের উল্লেখ রয়েছে। শর্মার কাছে এই অর্থ এল কোথা থেকে?
আরও পড়ুন- ‘খান’ নয়, শুধু ইরফান…নামের আড়ালে পরিচয়ের রাজনীতি ভেঙেছিলেন নিজেই
আদালত সূত্রে আরও খবর, যথাযথ আর্থিক নথি যেমন আয়কর রিটারন বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দলিলও দেখাতে পারেননি সিদ্ধার্থ শর্মা। আয়ের সঙ্গে সঙ্গতির কোনও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি জুবিন গর্গের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা। পুলিশের অভিযোগ সিদ্ধার্থ শর্মা জুবিনের মাথায় হাত বুলিয়ে টাকা আত্মস্মাৎ করে ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন।
এইভাবেই তিনি নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। প্রায় ১.১০ কোটি টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের উল্লেখ রয়েছে। বৈধ আয়ের উৎসের কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি সিদ্ধার্থ শর্মা। এর পরেই আদালত ৪৯ পাতার চার্জশিট পেশ করেছে। এর পরে আদালত সিদ্ধার্থ শর্মার নামে থাকা ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচাররক শর্মিলার ভূয়ান জানিয়েছেন, মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা বেশ কিছু নথি আদালতে জমা করেছেন। যা থেকে এই কথা স্পষ্ট যে গায়কের অর্থ যথেচ্ছভাবে খরচ করা হয়েছে। এমনকী একাধিক বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সিদ্ধার্থ শর্মার আয়ের উৎস সঙ্গতিপূর্ণ এমনটা বলা যাবে না।
