ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে চলছে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ আর এর মাঝেই বাংলায় ভোটপ্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কৃষ্ণনগর থেকে মোদি বলেন, ভোটদানের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এটা পরিবর্তনের আভাস বলে তিনি আখ্যা দেন। পরিবর্তনের ঝড় দেখতে পাচ্ছি আমি।”এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “গত ৫০ বছরে প্রথম নির্বাচন, যাতে হিংসা কমেছে। নইলে প্রতি সপ্তাহে কাউকে ঝুলিয়ে দিয়ে বলত আত্মহত্যা। গুন্ডারাজ চলত। নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন। গণতন্ত্রকে আবার বাংলায় প্রতিষ্ঠা করেছেন তাঁরা।
প্রথম দফার ভোটের দিন কৃষ্ণনগরে জনসভা করেছেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আর সেখানেও তাঁর মুখে শোনা গেল ‘ঝালমুড়ি’ প্রসঙ্গ (Jhalmuri)। মোদি বলেন, ‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল ওদের লেগেছে।’ মমতা আরও বলেন, ‘ঝালমুড়ি SPG-কে দিয়ে তৈরি করিয়ে, ১০ টাকা কখনও পকেটে থাকে ওনার ? কত নাটক ! নির্বাচনের সময়, গোয়াতে গিয়ে বসে থাকেন।
কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করেন মোদি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করতে ব্যর্থ। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের লোক কেবল লুট করতে ব্যস্ত।’’তিনি আরও বলেন, বলেন, ‘‘অত্যাচারী, দুর্নীতিবাজদের কোনও জায়গা হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কেউ ছাড় পাবে না। বিচার করবে আইন। লুটের টাকা সকলে ফেরত পাবেন।’’প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৫ বছর আগে বামেদের বিরুদ্ধে জনতা কেবল ফুঁ দিয়েছিল। কিন্তু এ বার তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে। আমরা ভোটে লড়ছি না। এ বারের ভোট জনতা লড়ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকারি কর্মচারীরা ভয় থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভাল ব্যবস্থার জন্য ভোট দিচ্ছেন। আইনজীবীরা ভোট দিচ্ছেন ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। শিক্ষক ভয়মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভোট দিচ্ছেন। জনতার সেবা করার জন্য ভোট দিচ্ছে পুলিশ।’’
আরও পড়ুন: কলকাতায় বাতিল হয়ে গেল রাহুল গান্ধীর সভা
বাংলার ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বিজেপি। বলেন, ‘‘আমি এ বার বাংলায় অনেক জায়গায় ঘুরেছি। দেখেছি মানুষ তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রীদের কাজে অতিষ্ঠ। সেই কারণে অনেক জেলার অনেক জায়গায় খাতাই খুলতে পারবে না তৃণমূল।মোদি বলেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি ভয় দূর হচ্ছে। ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। আমি সব জায়গা দেখতে পাচ্ছি, সকলেই বলছেন পাল্টানো দরকার।’’কৃষ্ণনগরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে। আমি সকলকে ভোটারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকলে গণতন্ত্রের উৎসব পালন করতে হবে।’’ তার পরেই মোদি বলেন, ‘‘আমি যত দিন রাজনীতিতে এসেছি, বলতে পারি গত ৫০ বছরে প্রথম এমন নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে। আগে তো লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বলত আত্মহত্যা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।’’মতুয়াদের বলব, তৃণমূলকে ভয় পাবেন না। আপনাদের কেউ হাত লাগাতে পারবে না।’’ তিনি আরও বলেন, শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা ধর্মীয় বিভাজনের কারণে ভারতে এসেছেন তাঁদের সঙ্গে মোদী রয়েছে। মোদির প্রতিশ্রুতি, ‘‘৪ মে বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর পরই সিএএ দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজের গতি আরও বাড়বে।
