মালদহ: মোথাবাড়ি কাণ্ডে শুক্রবার বিকেল থেকে এনআইএ (Kaliachak Incident NIA) তদন্ত শুরু করেছে। মোট ১০০ জনের এনআইএ টিম (NIA Investigation Team) শুক্রবার বিকেলে মালদহের কালিয়াচকে যান। এদের মধ্যে ৪০ জন এনআইএ আধিকারিক এবং ৬০ জন নিরাপত্তা রক্ষী ছিলেন। আজ শনিবার সকালে আরও ২৫ জন এনআইএ আধিকারিক এসেছেন মালদহে। কালিয়াচক মোথাবাড়ি এবং ইংরেজ বাজার এই তিনটি জায়গাতে মূলত তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। গতকাল কলকাতা থেকে রওনা দিয়ে এনআইএ-র তদন্তকারী দল (NIA Investigation Team) সরাসরি পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। নেতৃত্বে ছিলেন আইজি সোনিয়া সিং (IG Sonia Singh)। সেখানেই শুরু হয় প্রাথমিক অনুসন্ধান। কালিয়াচক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়ার জন্য রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করে দিল NIA। তদন্তে নেমে প্রথমদিনেই রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এনআইএ-র অপারেশন।
শুক্রবার রাতেই এসআইআরের কাজে নিজুক্ত এক বিচারকের সঙ্গে এনআইএ অফিসার কথা বলেন, গত বুধবার রাতে ওই বিচারক মোথাবাড়ি বিডিও অফিসে ঘেরাও হয়ে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরে বিচারকদের যেসমস্ত গাড়ি উদ্ধার করতে গিয়ে ছিল সেই পাইলট কারের গাড়ি চালকদের আজকে মোথাবাড়ি থানাতে ডেকেছে এনআইএ। পাশাপাশি গতকাল রাতে বিডিও অফিসের ভিতর থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এর সঙ্গে মোথাবাড়ি চৌরঙ্গী মোড়ে যতগুলি সিসি ক্যামেরা আছে তাঁর ফুটেজ ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে তাঁরা। এই ফুটেজগুলোই এখন তদন্তের ‘কোর অ্যাসেট’। কারণ, ঘটনার সময় ঠিক কী হয়েছিল, তা বোঝার ক্ষেত্রে এই ভিডিওই হতে পারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র।সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। প্রচুর ফুটেজ এক জায়গায় করে তা খতিয়ে দেখা হয়। কথা বলেন বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গেও।
আরও পড়ুন: ‘একুশের লড়াইটা কঠিন ছিল’ মনোনয়ন জমা দিয়ে শাসক দলকে নিশানা নওশাদের
ঘটনার দিন রাতে ওই এলাকাতে যে সমস্ত গাড়িতে মানুষ এসেছিলেন মোথাবাড়ি বিডিও অফিসে সেই গাড়ি গুলি কারা ভাড়া করে ছিল আজকে এনআইএ এর একটি দল সেই কাজে হাত লাগিয়েছে। এর সঙ্গে ঘটনার দির বিক্ষোভকারীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেই টাকা কিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে তদন্তে উঠেএসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এনআইএ জানতে পেরেছে। বিডিও অফিস ঘেরাও করার পরিকল্পনা অনেক আগের থেকেই করা হয়ে ছিল। কারা সেই মাথা সেটা জানার চেষ্টা করছে এনআইএ। আজকে এনআইএ এর একটি দল বিডিও অফিসে আটকে পড়া বিচারকদের সঙ্গে কথা বলবেন। এনআইএ সূত্রের খবর এই মুহূর্তে তাঁরা কেবল তদন্ত করে ৬ তারিখের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে রির্পোট জমা দিবেন। এখন এনআইএ এর পক্ষ থেকে কোনো এফআইআর করা হবে না। সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত রিপোর্ট দেখার পরে যা নির্দেশ দিবে এনআইএ সেই ভাবে কাজ করবে। এদিকে হেয়ারিং এর কাজে নিযুক্ত বিচারকেরা যে আক্রান্ত হতে পাড়েন নিরাপত্তার অভাব বোধ করে জেলা শাসককে সেই কথা আগাম জানিয়ে ছিলেন তদন্তকারী এনআইএ অফিসারকে সেই কথা জানিয়েছেন বিচারকেরা। বিডিও অফিসে সেই দিন কত কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিলেন কারা ডিউতে ছিলেন সেই তালিকা মোথাবাড়ি থানা থেকে সংগ্রহ করেছে এনআইএ।

