কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। সুষ্ঠু ও রক্তপাতহীন নির্বাচনের লক্ষ্যে এবার অনেক আগে থেকে রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তারপরও একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। কালিয়াচক কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। এসআইআরের (SIR) কাজে যুক্ত সাত বিচারককে মালদার মোথাবাড়িতে আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এক মহিলা বিচারকের কাতর কণ্ঠস্বর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে— যেখানে তিনি নিজের বেঁচে ফেরা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।সেই ঘটনা বুধবার গভীর রাতে মালদহের কালিয়াচকে জনবিক্ষোভ। আর এতে নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করছেন অনেকে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) তোপের মুখে রাজ্য পুলিশের ডিজি। একইসঙ্গে মালদহের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের ভূমিকা নিয়েও তোলা হয়েছে প্রশ্ন। মোথাবাড়িতে (Mothabari Unrest) বিচারকদের ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ প্রশাসনের। এই ঘটনায় গ্রেফতার (Arrest) করা হল মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ (ISF) প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে। তাঁর সঙ্গে আরও ১৭ জন অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এনিয়ে রাজ্যের ডিজিপি, মালদহ ও কলকাতার পুলিশ সুপারকে তুলোধোনা করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটের মুখে আদর্শ আচরণবিধি মেনে এই আইপিএস-দের নিয়োগ করেছে কমিশনই। ফলে নিজেদের নিযুক্ত অফিসারদের এহেন ব্যর্থতায় লজ্জায় জ্ঞানেশ কুমারের টিম। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশের বড় কর্তাদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সাফ কথা, সুযোগ একবার দেওয়া হচ্ছে। মোথাবাড়ি, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নমিনেশন জমার সময় স্লোগান ও সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভকাণ্ডে কড়া কমিশন, ‘আজ রাত ১২ মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে’, নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar)।
আরও পড়ুন: মোথাবাড়ি কাণ্ডের নেপথ্যে ISF? বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় গ্রেফতার ISF প্রার্থী সহ ১৮
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এক প্রকার হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, সুযোগ একবার দেওয়া হচ্ছে। ভাবেন না যেন বারবার সুযোগ দেওয়া হবে। কেন কালিয়াচক কাণ্ডে এত দেরিতে অ্যাকশন নেওয়া হল সেই প্রশ্ন বারবার তিনি তুলছেন বলে জানা যাচ্ছে। বিচারকদের কাতর আর্জির পরেও সুপারভাইজাররা আগে কেন পৌঁছলেন না, কেন এত দেরি হল, প্রশ্ন জ্ঞানেশের। একইসঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন ‘ডেডলাইন’। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যেই চিহ্নিত করতে হবে দোষীদের, করতে হবে গ্রেফতার। সাফ নির্দেশ সিইসি-র। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্রের খবর, সরাসরি পুলিশ কর্তাদের এই কড়া বার্তাই দিয়েছেন জ্ঞানেশ। পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের সময় কেন ঝামেলা সেই প্রশ্নও তোলেন।

