রাহুলের পুরনো লেখায় ‘ডুবে মৃত্যু’র সূত্র, মৃত্যুর আগেই কি জেনেছিলেন ভবিতব্য?

0
240

কলকাতা: মৃত্যুর আগে কি নিয়তি টের পেয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arundoy Banerjee)? না কি নিছকই কাকতালীয় মিল? অভিনেতার আকস্মিক প্রয়াণের পর এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে নেটমাধ্যমে।

রাহুলের মৃত্যুর পর ভাইরাল হয়েছে ২০১৮ সালে ‘আর্টিস্ট ফোরাম’-এর ‘বাতায়ন’ পত্রিকায় লেখা তাঁর একটি প্রবন্ধ ‘বান্ধবীরা’। সেই লেখার শুরুতেই তিনি লিখেছিলেন, “মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার…পাড়ার দুর্গাপুজোর ভাসান ছিল। শেষ সিঁড়িটা মিস করেছি… বেরিয়ে এলাম জল থেকে…” জলে ডুবে মৃত্যুর এমন বর্ণনা পড়ে অনেকেই হতবাক।

আরও পড়ুন: রাহুলের মৃত্যুতে প্রযোজনা সংস্থাকে ‘ব্ল্যাক লিস্টে’র দাবি সর্বভারতীয় সিনে সংগঠনের

শুধু প্রবন্ধই নয়, তাঁর লেখা একটি গল্প নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই গল্প অবলম্বনে তৈরি নাটক ‘যে জানাগুলোর আকাশ ছিল’-এও চার বন্ধুর মধ্যে তাঁর চরিত্রের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে আসে। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এ কি নিছক সমাপতন, না কি অন্য কিছু?

এদিকে, বাস্তবে রাহুলের মৃত্যুও ঘিরে রয়েছে একাধিক প্রশ্ন। রবিবার তালসারিতে শ্যুটিং চলাকালীন সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় ৪৩ বছরের এই অভিনেতার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রের সঙ্গে জলে নামার পর আচমকাই দুর্ঘটনা ঘটে। শ্বেতা প্রাণে বাঁচলেও রাহুলকে আর ফেরানো যায়নি।

ঘটনার পর থেকেই সামনে আসছে পরস্পরবিরোধী দাবি। প্রোডাকশন ম্যানেজারের বক্তব্য, শ্যুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তা হলে সেই সময়ের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হল কী করে? আবার, দাবি করা হয়েছে দ্রুত জল থেকে তোলা হয়েছিল অভিনেতাকে, যদিও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত, দীর্ঘ সময় জলে ডুবে ছিলেন তিনি।

প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার তথা রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্ক্রিপ্টে জলে নামার কোনও দৃশ্যই ছিল না। তবু প্রশ্ন উঠছে, তা হলে তাঁদের জলে নামতে বাধা দেওয়া হল না কেন? রাহুলের অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া। আর সেই শোকের মাঝেই তাঁর পুরনো লেখার সঙ্গে বাস্তবের অদ্ভুত মিল ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য, নতুন জল্পনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here