ওয়েবডেস্ক- বিধানসভা নির্বাচনের (2026 Assembly Election) আগেই নয়া মোড়! আজ বাঁকুড়ার (Bakura) শালতোড়ায় (Saltora) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সভায় তৃণমূলে (Tmc) যোগ দিলেন দুই বিজেপি নেতা (Bjp Leader)। নির্বাচন যখন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এটা বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন তাঁদের সঙ্গে নিয়েই আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়াকে ১২-০ করার ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে বাঁকুড়ার মাটি থেকে দাঁড়িয়ে বাঁকুড়ার সভা থেকে বিজেপিকে শূন্য করার ডাক দিলেন অভিষেক।
এদিন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, এই মুহূর্তে বাঁকুড়ার ১২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি তৃণমূলের বাকি ৭টি বিজেপির দখলে। শনিবার এই বাঁকুড়ার শালতোড়াতেই বিজেপি থেকে ঘাসফুলে যোগ দিলেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কালীপদ রায়। দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পরে নিজের ঘরেই ফিরে এলেন কালীপদ রায়। অপরদিকে তৃণমূলের নেতা হাতে তুলে নিলেন বাঁকুড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচির আওতায় জেলায় জেলায় রণসংকল্প সভা করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় অভিষেকের বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, কোনও ভদ্রলোক, ভালো লোক, শিক্ষিত লোক, মার্জিত লোক, সভ্য লোক বিজেপি করে না। এবার বাঁকুড়ায় এবার পদ্মবন সাফ করার হুঙ্কার অভিষেকের। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলেন, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২ আসনের ৪টি আপনারা তৃণমূলকে জিতিয়েছিলেন। বাকি ৮টি জিতেছিল বিজেপির প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের লোকসভায় ৪ থেকে বেড়ে আমাদের ৬ হয়েছে। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপি ছয়। বাঁকুড়াকেও ছয় মারতে হবে। দু’টো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে।
আরও পড়ুন- কোচবিহারে পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের
অভিষেক বিজেপি নেতৃত্বের সাংস্কৃতিক অজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অমিত শাহ রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বলেছেন। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিজেপি কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছেন। এরা বাংলার সংস্কৃতিই জানে না।
অভিষেক বলেন এসআইআর এর নামে বাঙালি উপরে অত্যাচার চলছে। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দাবি, গত দুমাসে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বীরভূমের এসআইআর নোটিস হাতে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাঞ্চন মণ্ডন নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বাঙালিকে শুধু ভাতে মারতে চায়নি, প্রাণেও মেরেছে বিজেপি। যারা আমাদের প্রাণে মেরেছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে শিক্ষা নিতে হবে। শালতোড়ার সভা থেকে এদিন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন অভিষেক।