ওয়েব ডেস্ক: ইটের গাঁথুনির একচিলতে সাদামাটা ঘর। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেন্দু পাতার তামাকের ঝাঁঝে সেখানে বিড়ি বাঁধেন মা। আর কাঠফাটা রোদে অন্যের পাকা বাড়ি তুলতে মাথায় ইট-সিমেন্টের ভারী বোঝা টানেন রাজমিস্ত্রি বাবা। নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে একবেলা পেটভরে ভাত খাওয়াই যেখানে নিত্যদিনের এক নির্মম যুদ্ধ, সেই চরম দারিদ্র্যের প্রাচীর চুরমার করে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ক্যাম্পের ট্রায়ালে ডাক পেয়েছে হাসনাবাদের বোলদেপোতা গ্রামের কিশোর তাইবুর মোল্লা।
ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার জুনিয়রকে নিজের জীবনের একমাত্র আইডল মানে তাইবুর। নেইমারের গতি আর ড্রিবলিংয়ের স্বপ্ন চোখে মেখে গ্রামের মেঠো পথে কখনও রবারের বল, আবার কখনও পুরোনো খবরের কাগজ দড়ি দিয়ে মুড়িয়ে বল বানিয়েই একা একাই অনুশীলন চালিয়ে যেত সে। ছেলের ফুটবলের স্বপ্ন বাঁচাতে বাবা-মা নিজেরা কতদিন না-খেয়ে কাটিয়েছেন, তার কোনও হিসেব নেই।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা না বিধবা ভাতা, বেছে নিতে হবে একটিই, একসঙ্গে দুই প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ
ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে মাঝমাঠ শাসন করে নজর কাড়ার পর এবার এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে গোয়ার ফতোরদায় জাতীয় ট্রায়ালের হাতছানি। অলক দাস ও দীপেন্দু বিশ্বাসের ঐতিহ্যবাহী বসিরহাটের ফুটবলে তাইবুর যেন এক নতুন সূর্য। বাবার হাতের কড়া আর মায়ের বিড়ির পাতার লড়াইকে সম্বল করে এবার দেশের নীল জার্সি ছিনিয়ে নেওয়াই হাসনাবাদের এই মেঠো ছেলের একমাত্র লক্ষ্য।
