ওয়েব ডেস্ক: গত এক বছর ধরে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছে কোহলির (Virat Kohli) আরসিবি (RCB)। প্রথম ১৭ বছরের একটানা ব্যর্থতার পর ২০২৫-এ সাফল্যের মুখ দেখেছিল দলটা। কোহলির অসম্পূর্ণ বৃত্তটা পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল সেদিনই। তাই ২০২৬-এর মরশুমটায় তাঁর কাছে হারানোর কিছুই ছিল না। এবারের মেগা-ফাইনালের (IPL 2026 Final) ঐতিহাসিক রাতেও স্বপ্নের রূপকথা লিখে গেলেন ক্রিকেটের এই রাজাধিরাজ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) ফের হয়ে উঠল ‘রয়্যাল চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু’।
আহমেদাবাদের মেগা-ফাইনালে গোটা স্টেডিয়াম যেন আজ ভেসে গিয়েছিল লাল-সোনালি ঢেউয়ে। নিজেদের ঘরের মাঠে কার্যত ‘আন্ডারডগ’ হয়েই খেলতে নামে শুভমনের (Shubman Gill) গুজরাত টাইটান্স (Gujarat Taitans)। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার (Rajat Patidar)। তাঁর সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে সঠিক ছিল, তা প্রথম ইনিংসেই প্রমাণ হয়ে যায়। শুরু থেকেই গুজরাতকে চাপে ফেলে দেয় ভুবি-হ্যাজেলউড জুটি। আরসিবির পেসের ধাক্কায় ধসে যায় জিটির টপ অর্ডার।
আরও পড়ুন: আইপিএলের একাধিক নিয়মে বিরক্ত শচীন! ক্রিকেটে ভারসাম্য ফেরাতে দিলেন ৩ সমাধান
বড় ম্যাচে সুদর্শন করেন ১২ রান, গিল ফেরেন মাত্র ১০ রানে। এরপর দীর্ঘ সময় বাউন্ডারির মুখই দেখতে পারেনি গুজরাটের ব্যাটাররা। ‘বিগ ম্যাচ প্লেয়ার’ জশ বাটলারও এদিন বড় রান পাননি। তরুণ নিশান্ত সাঁধুও থেমে যান ২০ রানে। একমাত্র লড়াই যান ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar)। তাঁর ৫০ রানের ইনিংস গুজরাতকে কিছুটা লড়াইয়ের জায়গায় রাখলেও শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৫ রানেই থামে তারা। রশিখ সালাম একাই নেন ৩ উইকেট। দুটি করে উইকেট পান ভুবনেশ্বর ও হ্যাজেলউড।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন কোহলি। কিংকে সঙ্গ দিতে ওপেনিংয়ে নামেন ভেঙ্কটেশ। বড় রান না পেলেও ভেঙ্কির ঝোড়ো ৩২ রানের ইনিংস থেকেই শক্ত হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর জয়ের ভিত। পাওয়ারপ্লেতেই ৮৬ রান তুলে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় আরসিবি। যদিও মাঝপথে আরসিবিকে কিছুটা চাপে ফেলে রাশিদ খানের ঘুর্ণি। পরপর পাডিক্কল, পাতিদার ও ক্রুণালের উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দল।
তবে অন্যপ্রান্তে তখন দাঁড়িয়ে ছিলেন কোহলি। ধৈর্যের সঙ্গে স্ট্রাইক রোটেট করে, খারাপ বল পেলেই বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে ম্যাচ শেষের রাস্তা তৈরি করেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি। শেষে টিম ডেভিড আউট হলেও ম্যাচ থেকে চোখ সরতে দেননি তিনি। শেষ মুহূর্তে শুভমন গিল একটি ক্যাচ ধরে নাটকীয়তা তৈরির চেষ্টা করলেও থার্ড আম্পায়ার তা নটআউট ঘোষণা করেন। এরপর ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন কোহলি নিজেই।
দেখুন আরও খবর:
