কলকাতা: পুজোর প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখনই বাংলার আকাশে দুর্যোগের ভ্রুকুটি (Weather Update)। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নাগাদ দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এই নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিধি আরও বাড়তে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুরের পাশাপাশি বীরভূম ও মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতাতেও আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে আপাতত স্বস্তির খবর, ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার কোনও পূর্বাভাস দেয়নি আইএমডি। নিম্নচাপটি পরবর্তী সময়ে কতটা শক্তিশালী হয়, তার উপরই নির্ভর করবে বৃষ্টির তীব্রতা।
সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
