ওয়েব ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে বহু বছর পর জয়েন্ট কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডেই সমস্ত আসন পূর্ণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এই তথ্য জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, চলতি বছরে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতেও ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর মতে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আস্থা বৃদ্ধি পাওয়ারই প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান।
পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস বোর্ডের প্রথম দফার কাউন্সেলিংয়ে ৩০ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ও চয়েস ফিলিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রথম রাউন্ডে মোট ৩৬ হাজার ৪৩১ জন পরীক্ষার্থী নাম নথিভুক্ত করেছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ১৩৫। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে নথিভুক্তির হার বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ের ভর্তি চলবে ১১ জুলাই পর্যন্ত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের ভর্তির হার বৃদ্ধির হার আরও বেশি। গত বছরের তুলনায় ছাত্রদের নথিভুক্তি বেড়েছে ৩১.৭৮ শতাংশ, অন্যদিকে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধি ৪১.৮৫ শতাংশ। এই তথ্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের মেধাবী পড়ুয়ারা এখন উচ্চতর কারিগরি শিক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠানগুলিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
আরও খবর : তৃণমূল কংগ্রেসের ৩টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার অন্তরবর্তী নির্দেশ হাইকোর্টের
তিনি লেখেন, “বহু বছর পর এই প্রথম, জয়েন্ট এন্ট্রান্স কাউন্সেলিংয়ের প্রথম রাউন্ডেই সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির সমস্ত আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত গর্ব ও আশার বিষয়।এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমাদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা উচ্চতর কারিগরি শিক্ষার জন্য আমাদের রাজ্যকেই বেছে নিচ্ছে। আমাদের রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের পরিবেশের ওপর যুবসমাজের এই আস্থা দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত।সমগ্র রাজ্যে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির আধুনিকীকরণ ঘটাতে এবং উদ্ভাবন ও শ্রেষ্ঠত্বের এক উন্নত পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাজ্যে বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে ‘ব্রেন ড্রেন’ (মেধার পলায়ন)-কে ‘ব্রেন গেইন’ (মেধার আহরণ)-এ রূপান্তরিত করা, যাতে আমাদের প্রতিভাবান যুবসমাজ এখানেই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারেন এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারেন। ”
এই সাফল্যকে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে উচ্চশিক্ষা দফতরও। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাইরে চলে যাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে তাঁদের রাজ্যেই পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ভর্তি পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
দেখুন অন্য খবর :
