কলকাতা: কত দফায় বাংলায় নির্বাচন হবে? ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) কবে শুরু? এনিয়ে সব মহলেই প্রশ্ন ঘুরছে। কমিশনের ফুল বেঞ্চের দুদিনের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief ElectionCommissioner Gyanesh Kumar)। জ্ঞানেশ কুমার জানালেন, সবদলের সঙ্গে কথা বলেছেন। এবার বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে, কত দফায় হবে ভোট। আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে ভোটের দিনক্ষণ। তিনি বলেন, “কোনও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়, কোনও অবৈধ ভোটার যেন ভোট না দিতে পারে, এটাই ছিল এসআইআরের একমাত্র উদ্দেশ্য।
গত রবিবার বাংলায় আসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সোমবার থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেন আধিকারিকরা। প্রথম দফায় রাজ্যের ২৩ জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়। শাসক-বিরোধী-সহ বাংলার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও বৈঠক করেন তাঁরা। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করেন জ্ঞানেশ কুমার। কত দফায় ভোট হবে বাংলায় সেই প্রশ্নের জবাবে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশের বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। কোনও উসকানি বরদাস্ত নয়।” জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সবদলের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেছেন। দিল্লি ফিরে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দফা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
আরও পড়ুন: ‘রাজনৈতিক নেতাদের কোনও বক্তব্যের জবাব দেবে না কমিশন; স্পষ্ট কথা জ্ঞানেশের
বাংলার ভোটে অশান্তি ঘটে না তা একেবারে বলা যাবে না। বোমাবাজি থেকে খুন – এমন নানা বড় ঘটনার সাক্ষী থাকে বহু জায়গা। একুশের নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়।বিশেষত, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদহে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটে।যদিও চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। এনিয়ে জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়েছেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধ পরিকর কমিশন। কোনওরকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করতে হবে।ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিকদের একমাত্র কমিশনের নির্দেশমতো কাজ করার কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। কোনও রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে ওই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া প্রত্যেক পুলিশ সুপারদের কোনও হিংসা দেখলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে যদি ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে কমিশন। বুথের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে তবেই ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন ভোটাররা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ভোটকেন্দ্রে থাকবে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা। ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে বলেও জানিয়েছেন জ্ঞানেশ।
