ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire in Middle East) কার্যকর থাকলেও আমেরিকা (USA) ও ইরানের (Iran) সম্পর্ক এখনও বেশ টানটান। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, স্থায়ী চুক্তির পথে অগ্রগতি না হলে যে কোনও মুহূর্তে ফের ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। এই আবহেই তেহরানের সামনে পাঁচ দফা শর্ত রাখল ওয়াশিংটন। তবে প্রথম অবস্থানের তুলনায় কিছুটা নরম সুরেই এবার এগোতে দেখা গেল আমেরিকাকে।
রবিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমেরিকা এবার ইরানের সমস্ত পারমাণবিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবি থেকে সরে এসেছে। পরিবর্তে একটি পরমাণু কেন্দ্র চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তেহরানকে। এটিকেই দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার দেওয়া বাকি চারটি শর্তের মধ্যে রয়েছে— যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইরানের দাবি কোনওভাবেই মানা হবে না, তেহরানকে ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, বাজেয়াপ্ত ইরানি বৈদেশিক সম্পদের ২৫ শতাংশও মুক্ত করা হবে না এবং ভবিষ্যতের আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতেই শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে।
আরও পড়ুন: হরমুজে আক্রান্ত একের পর এক ভারতীয় জাহাজ! কড়া নিন্দা করে কী বলল নয়াদিল্লি? দেখুন বড় খবর
তবে এই শর্তগুলি ইরান আদৌ মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ, ইরানের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাজেয়াপ্ত বৈদেশিক সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতির দাবিও জানিয়েছিল তেহরান। তবে তার পর জল গড়িয়েছে বহুদূর, যার সাম্প্রতিক সংস্করণ হল আমেরিকার দেওয়া এই শর্তাবলীর তালিকা। এখন ইরান এই সমস্ত শর্ত মেনে নিয়ে পাকাপাকিভাবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি ফের যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ববাসী।
দেখুন আরও খবর:
