কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সম্পত্তি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। কলকাতার একাধিক ঠিকানায় পুরসভার নোটিস পৌঁছনোর খবর সামনে আসতেই সরব হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে সাত দিনের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, তৃণমূলের তরফে গোটা ঘটনাকেই ‘সাজানো’ ও ‘ভিত্তিহীন প্রচার’ বলে দাবি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাঁদের দাবি, বিজেপির তরফে কলকাতা পুরসভার নামে একটি তালিকা ছড়ানো হয়েছে, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক তৃণমূল নেতার নাম জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল মনে করছে, বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে এবং দলের নেতাদের কালিমালিপ্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যে, সাজানো এবং বিশ্বাসযোগ্য নয়।”
তবে যে একাধিক ঠিকানায় নোটিস গিয়েছে বলে দাবি উঠেছে, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি। কুণাল বলেন, “বাড়ি কার, নোটিস গিয়েছে কি না, সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।” একইসঙ্গে তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য হল, “তিনি কোনও অপপ্রচারের কাছে মাথানত করবেন না।”
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েত পরিবর্তনের খেলায় জড়িতদের রেয়াত নয়! দলের নেতা কর্মীদের কড়া বার্তা শমীকের
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেছিলেন, কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। এরপরই কলকাতার ১৭টি ঠিকানায় নোটিস পৌঁছনোর খবর সামনে আসে। অভিযোগ, অভিষেক, তাঁর পরিবার এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় পুরসভার তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সায়নী ঘোষ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যৌথ সম্পত্তির গুঞ্জনও ছড়ায়। যদিও সায়নী ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, তাঁর সমস্ত সম্পত্তির তথ্য নির্বাচনী হলফনামাতেই উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম দাবি করেছেন, নোটিস পাঠানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর বক্তব্য, “পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ কাকে নোটিস দেবে বা কোন সেকশনে নোটিস দেবে, সেটা প্রশাসনিক বিষয়। মেয়র হিসেবে এটা আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নীতি নির্ধারণ করেন, কিন্তু রোজকার প্রশাসনিক কাজ কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ করে।”
অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কুণাল ঘোষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, “যে তালিকা ঘুরছে, সেটার সত্যতা যাচাই হোক। যদি আসল হয়, আইন আইনের পথে চলবে। আর যদি ভুয়ো হয়, তাহলে কারা এসব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
দেখুন আরও খবর:
