ওয়েব ডেস্ক: বালিগঞ্জের তৃণমূল (TMC) বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) বাড়িতে সিআইডির (CID) তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy)। শুধু বিধায়কদের সই জালিয়াতিই নয়, গত দেড় দশকে টেন্ডার বা প্রশাসনিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা শীর্ষ আমলাদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাপস রায় বলেন, “আমার তো সন্দেহ হচ্ছে, গত পনেরো বছরে টেন্ডার বা বড় বড় কাজের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের বা বড় আমলাদের সই জাল হয়নি তো?”
এর আগে শনিবার সকালে বালিগঞ্জে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছন সিআইডির তদন্তকারীরা। একজন ভিডিওগ্রাফার-সহ গোয়েন্দা আধিকারিকেরা প্রায় আধ ঘণ্টা সেখানে ছিলেন এবং বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কী বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে মুখ খোলেননি শোভনদেব। তিনি শুধু বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আদালতের বিচারাধীন। তাই এই মুহূর্তে আমি কোনও মন্তব্য করব না।”
আরও খবর: পশ্চিমবঙ্গ দিবসে বাঙালি মেজাজে অমিত শাহ! বঙ্গবাসীর জন্য মা দুর্গার কাছে কী চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?
এই বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর অভিষেক বন্ধ্যোপয়াধ্যা (Abhishek Banerjee) স্পিকারকে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানালে বিধানসভার পক্ষ থেকে বৈঠকের মূল প্রস্তাব এবং বিধায়কদের স্বাক্ষর-সহ তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি জমা দেওয়া হলেও তা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ, ওই তালিকায় একাধিক স্বাক্ষরের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকজন বিধায়ক প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাঁরা এমন কোনও নথিতে স্বাক্ষর করেননি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের জায়গায় কেবল ব্লক লেটারে নাম লেখা রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
দেখুন আরও খবর:
