কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সংঘাত এবার পৌঁছল নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দোরগোড়ায়। ঋতব্রতপন্থীদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবির পালটা হিসেবে সোমবার রাতেই সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠাল কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রে খবর, নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে রয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক পদে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন, এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মহেশতলায় কাউন্সিলরকে ঘিরে বিক্ষোভ! ডিম ছোড়া ও হেনস্তার অভিযোগ
সোমবার বিকেলে নিউটাউনের একটি হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নিজেদের জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করে। সেই কমিটিতে মমতা বা অভিষেকের কোনও স্থান রাখা হয়নি। সেখানে চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে, আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা।
ঋতব্রত শিবির জানিয়েছিল, নিয়ম মেনে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের নতুন কমিটি নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত করা হবে। কিন্তু তার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ করে কমিশনের কাছে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোর তথ্য জমা দিল মমতা শিবির।
জানা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সংশোধিত তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৫ জুন গঠিত জাতীয় কর্মসমিতিতে থাকা অরূপ বিশ্বাসের নাম নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে বিভাজন ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাংশ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে পৃথক সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এর জেরে একই দলের দুই পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের বৈধতা নিয়ে এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও জটিল হতে পারে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
