কলকাতা: ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election) প্রচারে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস (Devendra Fadnavis)। শুক্রবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে বিশদভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ফড়নবিস। বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ ফের দেশের প্রধান পাঁচটি রাজ্যের তালিকায় উঠে আসবে বলে দাবি করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আরও প্রতিশ্রুতি, সংকল্পপত্র অনুযায়ী, ১ কোটি যুবক-যুবতীর চাকরির সংস্থান করবে বিজেপি সরকার। সেই সঙ্গে ফড়নবিস অভিযোগের করে বলেন, ‘বাংলা সঙ্গে ৫০ বছরের বেশি সম্পর্ক থাকা প্রায় ১৪০০ কোম্পানি মহারাষ্ট্রে গিয়েছে। সেই তালিকায় মেজর কোম্পানি রয়েছে।
দেবেন্দ্র ফড়নবিস অভিযোগ তোলেন বাংলা পিছিয়ে পড়ছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় ক্ষেত্রে বাংলারঅর্থনৈতিক অবদান অনেক কমে গিয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলা থেকে প্রায় ১৪০০ কোম্পানি চলে গিয়েছে। তারা ব্যবসা করছে মহারাষ্ট্রে। সেই তালিকায় মেজর কোম্পানি রয়েছে। এখানে বলা হচ্ছে পুরনো কোম্পানি চলে গেলেও, নতুন কোম্পানি নাম নথিভুক্ত করেছে। আমার প্রশ্ন তারা কি পুরোদমে কাজ শুরু করেছে? সেই তথ্য দেওয়া হোক। দিতে পারবে না।” যুব সমাজ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য সরকারগুলি উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করে। চাকরি দেয় কোম্পানিগুলি। সরকারও চাকরি দেয় কিন্তু তাঁর পরিসীমা রয়েছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাতেও করা হবে। আগামী ৫-৭ বছরে বাংলা ফের দেশের পাঁচটি প্রথম রাজ্যের তালিকায় ফিরবে।’
আরও পড়ুন: ‘ম্যাজিশিয়ান ধরা পড়ে গিয়েছে’ সংসদে দাঁড়িয়ে মোদিকে আক্রমণ রাহুলের!
এদিন রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে ঋণের ফাঁদে পড়ে গেছে। রাজ্যের GSDP-এর তুলনায় ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে ২৫ শতাংশের বেশি হলেই তা বিপজ্জনক হিসেবে ধরা হয়। তুলনায় মহারাষ্ট্রে এই হার প্রায় ১৮ শতাংশ।’ ফড়নবিসের অভিযোগ, বিভিন্ন কেলেঙ্কারি এবং আর্থিক অনিয়মের কারণে রাজ্যের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিএজি রিপোর্টে বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব না পাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন আজ। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি— জনধন, উজ্জ্বলা, কিষাণ সম্মান নিধি, ‘লাখপতি দিদি’-সহ একাধিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়ন হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস।
