30.2 C
Kolkata

বিরোধী দলনেতা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন, স্পিকারের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

Must Read

ওয়েব ডেস্ক : বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) জোরদার আইনি লড়াই চলছে। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন। শুনানির সময় ​বিচারপতি শম্পা সরকারের বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকৃত বা আসল পক্ষ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সেই সিদ্ধান্তের আগেই স্পিকার কীভাবে একটি গোষ্ঠীকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে ধরে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করলেন, তা স্পষ্ট নয়।

শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, মামলার রিটার্নেবল ডেট ২৮ তারিখ নির্ধারিত ছিল। তার জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, হলফনামা জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বর্তমানে বিধানসভার অধিবেশন নেই, ফলে রিটার্নেবল ডেটের বিষয়টি এই মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক নয়। আদালত আরও উল্লেখ করে, মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই বিধানসভার সদস্য এবং বিরোধী দলনেতা সবসময় বিরোধী শিবির থেকেই নির্বাচিত হন। তবে সেই স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

আরও খবর : বনভূমি ধ্বংস নিয়ে পূর্বতন সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

আবেদনকারী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হোক। যদিও সেই আবেদনে তাৎক্ষণিক সায় দেয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) পক্ষে আইনজীবী জয়দীপ কর আদালতে দাবি করেন, এই মামলায় সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রযোজ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে বিচারাধীন রয়েছে। কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদন ঝুলে না থাকায় দশম তফসিল প্রয়োগের প্রশ্নই ওঠে না। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি একনাথ শিন্ডে মামলার রায়েরও উল্লেখ করেন।

তবে এই সওয়ালের মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি শম্পা সরকার। তিনি বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের আসল পক্ষ কোনটি, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার ক্ষমতা স্পিকারের থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আগেই একটি অংশকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে ধরে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করার যৌক্তিকতা আদালতের কাছে স্পষ্ট নয়। বিচারপতি আরও বলেন, এই বিষয়টি তাঁর কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন বুধবার ধার্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Latest News

পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নতুন মোড়, মদন মিত্রের স্ত্রী-সহ পরিবারের তিন সদস্যকে তলব ইডির

ওয়েব ডেস্ক : পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipal Recruitment Scam) এবার তদন্তের আওতায় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra)...

More Articles Like This