কলকাতা: উৎসবের দিনগুলো ছাড়া নাকি সে ভাবে হাউসফুল তো দূরের কথা, হলের অর্ধেক ভর্তি হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। দর্শক টানতে ব্যর্থ কি সাম্প্রতিককালের বাংলা চলচ্চিত্র? অন্তত তেমনই প্রমাণ দিচ্ছে শহরের উত্তর এবং দক্ষিণ দুই প্রান্তের দুই প্রেক্ষাগৃহ। দু’দিন ধরে বন্ধ শহরের প্রেক্ষাগৃহ গুলি। চলতি সপ্তাহে উত্তর কলকাতার বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহে দেখা গিয়েছে একই ছবি। বিনোদিনী (Binodini Theatre Closed) দিনদুয়েক ধরে বন্ধ। বুধবার বন্ধ ছিল প্রিয়াও (Priya Cinema Hall)। শুধু তাই নয়, শোনা যাচ্ছে কিছু দিন বন্ধ থাকবে নবীনাও (Navina Cinema Hall)। মাল্টিপ্লেক্সের ভিড়ে আজও শহরের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রিয়া, নবীনা, বিনোদিনীর মতো একঝাঁক সিনেমাহল। জড়িয়ে রয়েছে একরাশ স্মৃতি, নস্ট্যালজিয়াও। কিন্তু দর্শকদের অভাবে এবার সেই সব সুনেমা হলেও তালা ঝোলার উপক্রম।
স্টার থিয়েটার যেমন দু’দিন ধরে বন্ধ, বুধবার বন্ধ ছিল দক্ষিণ কলকাতার প্রিয়া সিনেমা হলও।এই মুহূর্তে যে সমস্ত বাংলা সিনেমা চলছে, তা দর্শকদের মনে দাগ কাটেনি খুব একটা। সিনেমা হলে মাছি তাড়াতে হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ কর্মীদের।সিনেমা হলে হাতে গোনা জনা পাঁচেক। টিকিটের টাকা বিক্রি করে উঠছে না ইলেকট্রিক বিলের খরচও। সবদিক বিবেচনা করে তাই প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর আজ, বৃহস্পতিবারও বন্ধ থাকবে বিনোদিনী থিয়েটার (Binodini Theatre Closed)। এই মুহূর্তে মিনার-এ চলছে মাত্র দু’টি করে শো। হল মালিকরা বলছেন, দর্শক সংখ্যা যা হচ্ছে, এর চেয়ে বেশি শো চালানো অসম্ভব।শোনা যাচ্ছে বর্তমানে বাংলা সিনেমার যা অবস্থা বিনোদিনী থিয়েটারের পথে হাঁটতে পারেন দক্ষিণ কলকাতার আরও দু’টি সিনেমা হল মালিক।
আরও পড়ুন: তেলুগু-কর্নাটক দুই রীতিতে পরিণতি পেল বিজয়-রশ্মিকার প্রেম
শুক্রবার নতুন হিন্দি এবং বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে। ওই দিন থেকে ফের খুলছে বিনোদিনী এবং প্রিয়া হল। বিনোদিনী সিনেমাহলের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “দুটো নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে, ‘প্রোমোটার বৌদি’ আর ‘পয়লা বৈশাখ’। এই দু’টি ছবির সঙ্গে ‘প্রজাপতি ২’ চালানো হবে।” অন্য দিকে, প্রিয়াতে চলবে ‘কেরালা স্টোরি ২’ এবং ‘মর্দানি ৩’। রক্ষণাবেক্ষণের কারণেই নাকি বন্ধ বিনোদিনী, প্রিয়াও!প্রিয়া সিনেমাহলের মালিক অরিজিৎ দত্ত অবশ্য সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। স্পষ্ট বলেছেন, “একদম টিকিট বিক্রি নেই। অপারেটিং কস্ট প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার টাকা। দিনে ১০ হাজারেরও কম রোজগার। তার মধ্যে ৫০ শতাংশ পরিবেশককে দিতে হয়। বাকি টাকার অনেকটাই চলে যায় বিদ্যুৎ খরচে। এ ছাড়াও রয়েছে প্রজেকশন খরচা, কর্মীদের মাইনে।”
নবীনা সিনেমাহলের মালিক নবীন চৌখানি অবশ্য এই বিষয়ে বলেন, ‘রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের প্ল্যানই ছিল একটু ঠিকঠাক করা হবে। তাই ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হলগুলো।’বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘আগামীকাল থেকে খুলে যাচ্ছে বিনোদিনী। দু’দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। রক্ষণাবেক্ষণের লোক কম ছিল।
