বারাণসী: ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত শহরগুলির অন্যতম কাশী (Kashi) বা বারাণসী (Varanashi)। গঙ্গার তীরবর্তী এই শহর শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্যই নয়, অসংখ্য মন্দির, ঘাট এবং কিংবদন্তির জন্যও পরিচিত। সেইসব বিশ্বাস ও লোককথার ভিড়েই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ধন্বন্তরি কূপ, যা স্থানীয়দের কাছে এক রহস্যময় ও অলৌকিক স্থান হিসেবে পরিচিত।
বারাণসীর মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব মন্দির চত্বরে অবস্থিত এই কূপকে ঘিরে বহুদিনের বিশ্বাস, এর জল শরীরে স্পর্শ করলেই নানা রোগ-ব্যাধি দূর হয়। অনেকের দাবি, এমন কিছু জটিল অসুখও এই জলের স্পর্শে উপশম হতে পারে, যা সাধারণ চিকিৎসায় সহজে সারে না।
আরও পড়ুন:
তবে এই বিশ্বাসের পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাবিজ্ঞানও এমন দাবিকে সমর্থন করে না। ফলে ধন্বন্তরি কূপের অলৌকিক ক্ষমতা মূলত ধর্মীয় আস্থা ও লোকবিশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ধন্বন্তরি চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদের দেবতা হিসেবে পরিচিত। সমুদ্রমন্থনের সময় তিনি অমৃতভাণ্ড নিয়ে আবির্ভূত হন। প্রচলিত জনশ্রুতি বলছে, অসুরদের হাত থেকে অমৃত রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর পাত্র থেকে কয়েক ফোঁটা অমৃত পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পড়ে। সেই অমৃতের একটি ফোঁটা নাকি এসে পড়েছিল এই কূপে। সেখান থেকেই কূপের জলে অলৌকিক শক্তির সঞ্চার হয়েছে বলে বিশ্বাস।
স্থানীয়দের মতে, শুধু শারীরিক রোগ নয়, অশুভ শক্তি বা নেতিবাচক প্রভাব থেকেও মুক্তি দিতে পারে এই কূপের জল। সেই কারণেই বহু মানুষ বিশেষ প্রার্থনা ও আচার পালনের উদ্দেশ্যে এখানে আসেন।
প্রায় একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে ধন্বন্তরি কূপকে কেন্দ্র করে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম হয়ে আসছে। কাশীর ঘাট, গলি ও মন্দির পরিক্রমার পাশাপাশি অনেক পর্যটকই এই কূপ দেখতে যান, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং লোকবিশ্বাসের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে।
কাশী ভ্রমণে যারা শহরের পরিচিত ঘাটের বাইরেও কিছু ভিন্ন অভিজ্ঞতার খোঁজ করেন, তাঁদের কাছে ধন্বন্তরি কূপ হতে পারে একটি বিশেষ আকর্ষণ। তবে রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সে কথাও মনে রাখা প্রয়োজন।
