কলকাতা: নির্বাচনের মুখে বড় ধাক্কা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। কলেজের অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার, বিশেষত প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের পর্যবেক্ষণ, কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বা যুক্তি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
আদালত জানায়, একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন অধ্যাপকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হল, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। এমনকি কার বেতন কাঠামো কী, বা কোন ভিত্তিতে এই দায়িত্ব বণ্টন, সেই সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্যও পেশ করা হয়নি। ফলে এই সিদ্ধান্তকে ‘অপরিকল্পিত’ বলেই মনে করছে আদালত।
আরও পড়ুন: প্রতিবাদ করতে গিয়েই মার, নওদায় আক্রান্ত তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি
তবে রায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও রাখা হয়েছে। যে সমস্ত অধ্যাপক স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব পালন করতে চান, বিশেষ করে যাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরা চাইলে পোলিংয়ের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন।
শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার যুক্তি দেন, রাজ্যে প্রায় ৯০ হাজার বুথে ভোটগ্রহণের জন্য সমসংখ্যক প্রিসাইডিং অফিসার প্রয়োজন। কর্মীর অভাবেই অধ্যাপকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালের একটি সার্কুলারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে গ্রুপ ‘এ’ আধিকারিকদেরও এই কাজে নিযুক্ত করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, ২০১০ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সুযোগ নেই। পর্যাপ্ত রিজার্ভ কর্মী থাকা সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত স্পষ্ট করে দেয়, প্রয়োজনীয় যুক্তি ও পরিকল্পনার অভাবে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা যায় না। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এই নির্দেশে নতুন করে চাপ বাড়ল কমিশনের ওপর।
