নয়াদিল্লি: বিধানসভা ভোটের আবহে (West Bengal Assembly Election 2026) রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ষষ্ঠ তালিকা প্রকাশ করেছে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে জেলায় জেলায় একাধিক নামও বাদ গিয়েছে। অনেক নাম এখনও বিচারাধীন। অনেকের মধ্যে ভোটাধিকার থাকা নিয়ে শংসয় তৈরি হয়েছে। এবার ভোটাধিকার নিয়ে বড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালত নির্দেশ জানিয়েছে, ভোট দিতে না পারার অর্থ এমন নয় যে ভোটাধিকার চলে গেলএমনটা নয়।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই এসআইআর মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ছিল। প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে আজকে রাজ্য সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং মামলাকারীদের তীব্র সওয়াল-জবাব চলে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন বলেন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে বিপুল সংখ্যক আবেদন ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। প্রায় ৪৭ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই শীর্ষ আদালত আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করেছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দ্রুত আপিল নিষ্পত্তিই এখন অগ্রাধিকার। আগামী ৬ই এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। শুনানির শুরুতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনাল গঠনের অগ্রগতির খতিয়ান পেশ করা হয়।প্রধান বিচারপতি প্রথমে বলেছিলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব আপত্তির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। তাই আমরা মামলাটি ৭ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাখছি।
আরও পড়ুন: সব প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, SIR মামলায় আর কী বলল সুপ্রিম কোর্ট? দেখুন
কমিশনের আইনজীবী তখন বলেন, “আইন অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁরা ভোটার তালিকায় আসবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই বিবেচনাধীনদের নামের নিষ্পত্তি ৭ তারিখের পরিবর্তে ৬ তারিখ রাত ১২টার মধ্যে করা হোক। সেই সঙ্গে ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি জানান, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না-পারেন, তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার চিরতরে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। স্পষ্ট করেন, কেউ বর্তমানে ভোটার তালিকায় থাকলেও পরবর্তী সময়ে নাম বাদ পড়তে পারে, সে ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে। বিচারপতি বলেন, “কীসের ভিত্তিতে এই ভোট হচ্ছে তা আমরা দেখতে চাই। কোন ব্যক্তি যদি ভোট দিতে না পারেন, সেটা তার সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়। কোন ব্যক্তির নাম বাদ যেতে পারে কিন্তু পরে অ্যাপেলেট তার নাম যুক্ত করতে পারে। কোন ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে তার নাম বাদ যেতে পারে অ্যাপলেট এর মাধ্যমে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলে তার অর্থ এই নয় যে তার ভোটাধিকার চিরকালের জন্য চলে গেল।”

