ওয়েব ডেস্ক: ক্ষমতায় থাকাকালীন তোলাবাজি, হুমকি এবং রাজনৈতিক হিংসায় মদত দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক খোকন দাস (Khokan Das)। অবশেষে তাঁকে ভিনরাজ্য থেকে আটক (Detained) করল পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন এলাকা থেকে শনিবার রাতে খোকন দাসকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে বর্ধমানে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। সোমবার তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হতে পারে।
২০২১ সালে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই খোকন দাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী হিংসা, এলাকা দখল, তোলাবাজি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসে তাঁর নাম জড়িয়েছিল বারবার। যদিও সেই সময় প্রশাসনের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলেই দাবি ছিল বিরোধী ও স্থানীয়দের একাংশের।
আরও পড়ুন: পুলিশের জালে তৃণমূলের ‘তোলাবাজ’ নেতা! গ্রেফতারির সময় উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান
পরিস্থিতি বদলায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের ভরাডুবির সঙ্গে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রেও পরাজিত হন খোকন দাস। এরপরই তাঁর একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে হুমকি দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ। ওই অডিওতে খোকনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর বেশি হইচই করছিস! মনে রাখিস, আমিই এখন বিজেপি নেতা।” যদিও শুরু থেকেই সেই অডিওকে ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
অডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই খোকন দাসের বিরুদ্ধে থানায় একের পর এক অভিযোগ জমা পড়তে থাকে। অভিযোগের চাপ বাড়তেই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপরই তাঁর খোঁজে তৎপর হয় জেলা পুলিশ। তদন্তে নেমে ট্রেনের গতিবিধি ও বিভিন্ন সূত্র ধরে উত্তরপ্রদেশে পৌঁছয় পুলিশের বিশেষ দল। শেষ পর্যন্ত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খোকন দাসের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হতে পারে।
দেখুন আরও খবর:
