ওয়েব ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার (Australia) নিউ সাউথ ওয়েলসের হলব্রুক শহরে রয়েছে সাদামাটা একটি শেড। বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা শিল্পস্থাপনার মতোই। কিন্তু সেই শেডের ভিতরেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে মৃত্যুবরণ করা কয়েকজন মানুষের দেহ। প্রতিষ্ঠানটির নাম সাদার্ন ক্রায়োনিক্স (Southern Cryonics)। ২০২৩ সালে কাজ শুরু করার পর এখনও পর্যন্ত সাতজন মৃত ব্যক্তিকে তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে।
এই পদ্ধতির নাম ক্রায়োনিক্স (Cryonics)। কোনও ব্যক্তিকে আইনত মৃত ঘোষণা করার পর যত দ্রুত সম্ভব তাঁর দেহকে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। বিশেষ রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেহের কোষে বরফের স্ফটিক তৈরি হয়ে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কমানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে দেহটি সংরক্ষণ করা হয়।
কেন এই ব্যবস্থা? সংস্থার বিশ্বাস, ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান এতটাই উন্নত হতে পারে যে বর্তমানে যে রোগ বা শারীরিক ক্ষতির কারণে মৃত্যু হচ্ছে, তা সারিয়ে সংরক্ষিত ব্যক্তিকে ফের জীবিত করা সম্ভব হতে পারে। তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আরও খবর : ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে সাহায্য করতে চেয়েছিল ভারত, চীন: রাশিয়া
কারণ, আজকের বিজ্ঞানে হিমায়িত মৃতদেহকে পুনরায় জীবিত করার কোনও প্রমাণিত প্রযুক্তি নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা মানবদেহকে এমনভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন। দেহের বিভিন্ন অংশে সমানভাবে ক্রায়োপ্রোটেক্ট্যান্ট পৌঁছে দেওয়া এবং পরে সেই প্রক্রিয়া উল্টো করে জীবন্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এখনও বিজ্ঞানের নাগালের বাইরে।
তবুও এই আশার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করছেন অনেকে। সাদার্ন ক্রায়োনিক্সের পরিষেবার মোট খরচ ২ লক্ষ মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে। সংস্থার চেয়ারম্যান পিটার সোলাকিডেস নিজেও স্বীকার করেছেন, ভবিষ্যতে তাঁদের সংরক্ষিত ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই অনিশ্চিত। অর্থাৎ এখনই মৃত্যুর পর প্রাণ ফেরানোর কোনও প্রযুক্তি তৈরি হয়নি।
