প্রশাসনে রদবদল, সিদ্ধান্তের পিছনে অনেক কারণ আছে: কমিশন

0
34

কলকাতা: রাজ্যের আইএএস আইপিএস আধিকারিকদের বদলির (IAS and IPS Transfer Case) বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলা শুনানি ছিল। বুধবার ফের মামলার শুনানি।মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশের ডিজি (DG Changed)— প্রশাসনের শীর্ষস্তরের একের পর এক আধিকারিককে সরানোর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি না করেও কমিশন কার্যত ‘অপ্রত্যাশিত জরুরি অবস্থা’ তৈরি করেছে। রাজ্যের উন্নয়ন বিপর্যস্ত হচ্ছে। যদি কোনও বিপর্যয় হয় তাহলে কে তার দায়িত্ব নেবে? নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব নেবে?

মামলাকারী অর্ক কুমার নাগের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইয়ার প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি। রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা ও হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ১৫ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অফিসারকে অন্যান্য রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলত দফতরের কাজে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরই কমিশন খালি নির্বাচনেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাজ্যের যে অন্যান্য কাজ সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেগুলো কিভাবে হবে? নির্বাচন কমিশন পুলিশ ও DEO দের বদলি করে দিচ্ছে ।SIR প্রক্রিয়া চলছে ।এই DEO রা SIR কাজে নিযুক্ত আছেন।

জাভেদ শামীম এর মতো অভিজ্ঞ আইনশৃঙ্খলা ও পরিস্থিতি সামলানোর অফিসার কে বদলি করতে হয়ছে ।কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুপ্রিম সরকার এক মাস আগে নিয়োগ করা হয়ছে তাকেও বদলি করেছে কমিশন ।তাহলে কি নিজের পছন্দ মতো লোক কে বিভিন্ন জায়গায় বসিয়েছে কমিশন ? এই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) নির্দেশ দিয়েছে এসয়াইয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে। অ্যাডজুডিকেশনের জন্য বিচারক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন কি সরকারের অন্যান্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে? নির্বাচন করার ব্যাপারে কমিশনকে স্বাধীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্যান্য দফতরের কাজে কি হস্তক্ষেপ করতে পারে? পুলিশ, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চতর আধিকারিকদের অন্যত্র নির্বাচনের কাজে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য যদি কোন দূর্যোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সেক্ষেত্রে কি হবে? সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গত ১৩ মার্চ অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বিরোধী বিভিন্ন দলের ১৯০ জন সাংসদ তাতে সাক্ষর করে। মুখ্য সচিবকে বদলি করা হয়েছে। তাকে কোথায় নিযুক্ত করা হবে? ডিজিপিকে না হয় বুঝলাম অন্যকোনও পদে নিয়োগ করা হবে। কিন্তু মুখ্যসচিব?
অভিজ্ঞ অফিসারদের বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দেওয়া হল।

আরও পড়ুন: কোনও বড় ঘটনা ঘটলে তার দায় নেবে কে? হাইকোর্টে সওয়াল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কল্যাণের সওয়াল, ১৩ জন অফিসার স্থানান্তর করা হয়ছে। ডিআইজি লেভেল এর ৫ জন কে স্থানান্তরিত করা হয়ছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে কল্যাণ আরও বলেন, “৬৩ জন পুলিশ অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে। ১৬ জন আইএএস অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছে।”পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সমস্যা মুখ্যসচিব দেখছেন। তাঁকে সরিয়ে দিল। কমিশন কি ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে? এসআইআর শুরুর সময় থেকে কমিশন অফিসারদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। এসআইআরের সময় ওই অফিসারদের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেনি কমিশন।নির্বাচন ঘোষণার পরে তারা কেন হঠাৎ অপসারণ করছে? কী এমন হল? শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আর অন্য কোনও রাজ্যে এমন হয়নি।”

রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব প্রথমত, ইলেট্রোরাল রোল তৈরি করা আর দ্বিতীয় নির্বাচন করা।এই প্রক্রিয়ায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সিইও তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিযুক্ত আধিকারিকদের বদলি করে দিয়েছেন। বদলি কখন করা হয়? কে করতে পারে? নিয়োগ কর্তা করতে পারে সাময়িকের জন্য অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে।নির্বাচন কমিশন তো এই আধিকারিকদের চাকরি দেয়নি।তাহলে কমিশন কিভাবে বদলি করে? রাজ্য যখন কোনও আধিকারিককে নির্বাচনের কাজের দায়িত্ব দেয় তাহলে কমিশন সেক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। সিইও সরাসরি রাজ্যের কাজে হস্তক্ষেপ করছে।এটা তো করা যায়না।সংবিধান সেই ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেয়নি।প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল – সংবিধানের কোন ধারা, বা কোন আইন লঙ্ঘন করেছে কমিশন?

কিশোর দত্ত, অ্যাডভোকেট জেনারেল আরও বলেন, এটা কোন ধারা নয়।সিইও তার নিজের এক্তিয়ারের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিচারপতি পার্থ সারথি সেন- এই মামলায় কোন জনস্বার্থ কি আদৌ যুক্ত আছে? কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনগন?কিশোর দত্ত, অ্যাডভোকেট জেনারেল,সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল রাজ্যের সাথে ইলেকশন কমিশনের কোথাও পারস্পরিক বিশ্বাসের অভাব হচ্ছে? এই ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যে।মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে যে আধিকারিকরা রাজ্যের জনকল্যাণমুখী দপ্তরের কাজে নিযুক্ত তাদের এই ভাবে বদলি করা যায়না।আদালতের উচিত কমিশনের এই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেওয়া।

আরও পড়ুন: তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকায় বড় চমক বামফ্রন্টের! কোন আসনে কে প্রার্থী? দেখে নিন একনজরে

কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে কি ৩৫৬ জারি হয়েছে। একমাত্র ৩৫৬ জারি হলে এই হস্তক্ষেপ হতে পারে।নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু বলেন, রাজ্যে নির্বাচন করানোর ক্ষেত্রে কমিশনের প্রভুত ক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন যাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়।যদি আইনসভা তার পথরুদ্ধ করে তাহলে তা কখনওই অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারেনা। পাঁচটা রাজ্যে এসআইয়ার হচ্ছে এবং নির্বাচন হচ্ছে। কোথাও এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। কমিশনের আইনজীবী বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে, এটা বলছি না। কোনও সাংবিধানিক সংস্থার প্রচুর ক্ষমতা থাকে, এমন নয়য়। তবে কোনও কিছু পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্তের পিছনে অনেক কারণ রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আরও বলেন, জনস্বার্থ মামলা কি? রাজ্য কি জনস্বার্থ মামলা করতে পারে? মামলাকারী নিজেকে একজন জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন পিটিশনে।কিন্তু অর্ক কুমার নাগের পরিচয় কি? অর্ক কুমার নাগ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের একজন আইনজীবী হিসাবে নিযুক্ত। তাহলে এই জনস্বার্থ মামলা কি গ্রহনযোগ্য? মামলার গ্রহনযোগ্যতা নেই।অবিলম্বে খারিজ করা উচিত। রাজ্যে যে পদাধিকারীদের বদলি করা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই একজন অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ অফিসার।আগের আধিকারিকদের থেকে ৬-৭ বছর করে সিনিয়র। স্বল্প সময়ের জন্য তাদের ইলেকশন কমিশন নিয়োগ করেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের একাধিক নির্দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা প্রমানিত সত্য যে তিন চার বছরের বেশি কোন আধিকারিক একজজায়গায় নিযুক্ত থাকলে তাদের উপর রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের প্রভাব তৈরি হয়।আগামী বুধবার ১২.৩০ এ ফের শুনানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here