Aajke | কাঁথির মেজোখোকা মাইনকা চিপায় পড়িছে

0
55

‘মাইনকা চিপা’ কথাটা বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করেন, মানেটা হল- এক মরণ ফাঁদে পড়ার অবস্থা, না পারছে গিলতে, না পারছে ওগরাতে – এমন এক অবস্থা। তো আমাদের শান্তিকুঞ্জের মেজোখোকা পড়েছেন সেই মাইনকা চিপায়। আসছি সে কথায়। বসন্ত আসছে, খবর পেয়ে ফাগুন বৌ ফোটে, চোখ গেল ডেকেই চলে অবিরাম, সেই হলুদ পাখিরা বাসা বাঁধে। বাঘের আগেই ফেউ আসে। প্রতিবাদ করলেই ইডি আসে বা সিবিআই। আর নির্বাচন আসছে সামনে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা ‘সুনার বাংলা গড়ব’ বলে হামলে পড়ে। হ্যাঁ, এ ছবি আমরা ২০১৬-তে, ২০১৯, ২০২১, ২০২৪-এ দেখেছি। একেকবার একেক জন দায়িত্ব আর ভোট ফুরোলেই তিনি আর নেই! আরে বাবা বর্গি যে কারও উপাধি হয় তাই তো জেনেছিলাম ২০১৬-তে, এসেছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গি, হেরে ভুত হয়ে এখন মধ্যপ্রদেশের দ্বিতীয় সারির নেতা। তো এবারে মোদি আর অমিত শাহ তো আসছেনই, তাঁরা তো জান লড়িয়ে দেবেন, কিন্তু এক পরিবর্তন রথযাত্রাতে আসছেন রাজনাথ সিং, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, আসছেন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মানে মোদিজির গোটা মন্ত্রী সভার সদস্য আর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীদের মান্থলি পাস দেওয়া হয়েছে, যাতে ওনারা যেকোনও সময়ে এসে হাজির হতে পারেন। আসলে বিজেপির দিল্লি নেতৃত্বের বঙ্গ বিজেপিতে আস্থা এক্কেবারেই নেই বললেই চলে। ধরুন নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন নেতাদের, কিন্তু নির্বাচনী অর্থ যোগানের দায়িত্ব দিল্লি নিজের হাতেই রেখেছে, ওনাদের কাছে খবর আছে এক সাংবাদিক, যিনি এখন বিজেপি নেতা, তিনি গতবারের নির্বাচনী ফান্ড থেকে আড়াই-তিন কোটি টাকা ঝেপে দিয়েছেন, এক অভিনেত্রী তো টাকা নিজে হ্যান্ডল না করে আপাতত মাঠের বাইরে। হ্যাঁ, জেতার আগেই ঝেড়ে ফাঁক, এমন খবর পেয়েছে দিল্লি নেতৃত্ব, তাই নির্বাচনী মরশুম এসেছে, দিল্লির নেতারা হাজির, সেটাই আমাদের বিষয় আজকে, কাঁথির মেজোখোকা মাইনকা চিপায় পড়িছে।

কেবল কি তাই? দিল্লি নেতাদের কাছে এও খবর আছে যে, বঙ্গ বিজেপিতে বেশ কিছু মমতার বসানো লোকজন আছেন, তাঁরা বিরোধী শিবিরে সব খবর সময়মতো পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁরাই নাকি দলের মধ্যে বিক্ষুব্ধদের তালিকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন কুণাল ঘোষের কাছে, যাতে সময়ে সুযোগে তাঁদের আমতলা জামতলায় বসিয়ে ব্যাপটাইজ, মানে দলবদল করানো যায়। দিল্লির নেতারা নাকি এও টের পেয়েছেন যে, বঙ্গ বিজেপির বেশ কিছু নেতা নাকি তৃণমূলের পে রোলে আছে। কাজেই ‘বংগাল চাই’ বললেই তো হবে না, নেতা কর্মীদের কড়া নজরে রেখেই সেই কাজ করাতে হবে। বিভিন্ন নির্বাচনী কমিটির মাথায় তাই দিল্লির নেতারা। আপাতত জানা যাচ্ছে, তাঁদের অগাধ বিশ্বাস কেবল বঙ্গ বিজেপির সভাপতির উপরে। হ্যাঁ, দলবদলু নন, আরএসএস–দীনদয়াল উপাধ্যায়, থেকে শক্তি চট্টোপাধ্যায় বোঝেন, বাঙালি রীতি নীতি নিয়ে ওয়াকিবহাল, উনিই আপাতত দিল্লি নেতাদের ভরসা কেন্দ্র। হ্যাঁ, ওনার পরামর্শেই ‘জয় শ্রী রাম’ থেকে মোদিজি ‘ব্যোম কালি’, থুড়ি ‘জয় মা কালী’-তে নেমেছেন। শোনা যাচ্ছে, ওই ‘বামাক্ষ্যাপা’ সিনেমাটা ওনাকে দেখানো হবে, আর তারপর থেকে উনি ওই ‘ব্যোম কালী’ বলতে শুরু করবেন।

আরও পড়ুন: Aajke | জনসংযোগে বেরিয়ে ঝ্যাঁটা দেখছে বিজেপি!

কিন্তু থাকছেন বটে মঞ্চে সর্বত্র, কিন্তু মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে শান্তিকুঞ্জের মেজোখোকার। কেন? কারণ আবার সেই বঙ্গ বিজেপি সভাপতি, আকচা আকচি এড়াতে উনি দিয়েছেন মোক্ষম চাল, বিধানসভার বিরোধী দলনেতাই প্রার্থী নির্বাচনে মূল ভূমিকা নিন, আর তার সঙ্গে দিল্লির নেতারা ক্যাভিয়েটও চাপিয়েছেন, জিততে হবে। হ্যাঁ, এক প্রকান্ড চাপ বঙ্গ বিজেপির মেজোকার উপরে। কারণ উনি এবং দুনিয়ার মানুষজন ভালো করেই জানে, বিজেপির কাজকর্মের ধারা, সেই মোডাস অপারেন্ডিতে সুযোগ দেওয়ার পরে ব্যর্থ হলে ঘেঁটি ধরে সাইড লাইনের ওধারে পাঠানোর হুদো হুদো উদাহরণ আছে, পেরিস অর পারফর্ম, কাজ করে দেখাও নাহলে ভোগে যাও। তো সেই চাপে বেচারা শান্তিকুঞ্জের মেজোখোকার মুখ আমসি হয়ে গিয়েছে, কারণ দলের ভেতরের সমীক্ষায় বিরাট ভালো ফলাফলের যে ছবি এসেছে, তাতে বিজেপি ১১৯। তেনারা বাম ভোটের প্রায় পুরোটা পাবেন, তৃণমূল ভোটের দু’শতাংশ ক্ষয়ে বিজেপির ধারে আসবে আর মুসলমান ভোট কিছুটা হলেও ভাঙবে, এতগুলো ভ্যারিয়েবলস সবকটা বিজেপির পক্ষে গেলেও নাকি বিজেপি ১১৯-এই দম ফেলে দিচ্ছে। তাহলে? আমাদের মেজোখোকার কী হইবে? আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, নির্বাচন আসছে, দেশজুড়ে বিজেপির সমস্ত নেতারা এখন আবার ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করে দিলেন, সব্বাই এখন ‘সুনার বাংলা’ গড়তে আসছেন, কিন্তু তাতেও কি নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির দিকে যাবে? আপনাদের কী মনে হয়? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

আর এরও উপরে আছে কোল্যাটারাল ড্যামেজ, থাকবেই, এই গোটা দেশজুড়ে বিজেপি নেতাদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কেবল অনিহা নয়, এক ঘৃণা আছে। মচ্ছিখোর, বাংলাদেশি, মুসলমান, এরকম নানান অভিধা তাঁদের মাথায় জমা থাকে বাঙালিদের জন্য, কাজেই তা ফুটে বের হবেই, সে বঙ্গ বিজেপি সভাপতির কড়া নজরদারির মধ্যেই হবে। আর ছিছিক্কার রব উঠবে বাংলাতে। হ্যাঁ, নিজেদের আলোচনাতে এই বিষয় নিয়ে চিন্তিত বঙ্গ সভাপতি মনে মনে ভাবছেন বেশি না ছড়ালেই হল।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here