Aajke | বিজেপি যে খেলায় নেমেছে, তা ভয়ঙ্কর

0
25

এক নরক গুলজার চলছে চোখের সামনে, যা ইচ্ছে খুশি তাই করে চলেছে নির্বাচন কমিশন, হ্যাঁ, প্রভুর নির্দেশ মেনেই। এই সময়ে বিন তুঘলকি ফতোয়া জারিতে আতঙ্কিত, তিতিবিরক্ত মানুষজন এবারে রিঅ্যাক্ট করা শুরু করলেন। প্রথমে বলা হল ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপ করুন, নিজেদের বাবা-মা বা নিজের নামকে ২০০২ এর তালিকার সঙ্গে লিঙ্ক করুন, এই কাগজ চলবে না সেই কাগজ চলবে না, ওই কাগজ দিন ইত্যাদি নানান হেনস্থার পরে একটা খসড়া তালিকা বের হল, বহু মানুষের নাম নেই, তাও কমবেশি ৬০ লক্ষ, কিন্তু সেরকম কোনও প্রতিবাদ তো হল না। কিন্তু উপরে রাজামশাই খুশি নন, তাঁর নির্দেশে নতুন ফতোয়া এল, এতদিন মানুষজন জানতেন ওই ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে জুড়ে যেতে পারলেই আর কোনও সমস্যা নেই, এবারে জানা গেল ওই তালিকাতে নাকি আরও ৬০ লক্ষ মানুষ আছে যাঁদের নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি হিসেবে বাদ দেওয়া হচ্ছে, এনারা বিচারাধীন। এরপর বলা হল বিচারকেরা বসবেন, বিচার করবেন, তো এখনও পর্যন্ত ৪৯ লক্ষ মানুষের বিচার হয়েছে, সেখানেও ১৭-১৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। হচ্ছেটা কি? এরপরেও মানুষ চুপ করে থাকবে? বহু নাম বাদ গিয়েছে কেন? এই ক্ষোভ জানাতেই উত্তেজিত মানুষজন বুধবার বিকেল চারটে থেকে মোথাবাড়ি বিধানসভার কালিয়াচক–২ বিডিও অফিসে তিন মহিলা–সহ সাত জন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখে। বিডিও অফিসের দু’টো গেট আটকে রাত পর্যন্ত চলেছে বিক্ষোভ। সামনের সারিতে ছিলেন মহিলারা। এটাই বিষয় আজকে, বিজেপি যে খেলায় নেমেছে তা ভয়ঙ্কর।

রাত সাড়ে ১২টার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে ঘেরাওমুক্ত হন সবাই। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে বিচারকদের বের করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে গাড়ির ধাক্কায় জখম হন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরতর। চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি পর অবরোধ তোলে আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এত ক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সাত জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন। সেই উস্কানিমূলক কথাবার্তার ফলই আমরা দেখতে পাচ্ছি।” না উনি কনসার্ন নন, এত মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে, উনি চিন্তিত নন আতঙ্কে লাগাতার ঘটতে থাকা আত্মহত্যার ঘটনাগুলো নিয়ে, উনি চিন্তিত ওই অফিসারদের, যাঁদের বিডিও অফিসে ঘন্টা পাঁচ-ছয় অবরোধ করে রাখা হয়েছে বলে।

আরও পড়ুন: Aajke | শুভেন্দু অধিকারীকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হোক

এবারে আসুন বোঝা যাক হচ্ছেটা কী? এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মানুষজন তো মাত্র কিছুদিন আগেই জেনেছিলেন, তাঁদের নাম ভোটার লিস্টে আছে, তার পরে তাঁদেরই জানানো হল, তাঁদের বাবা-মা কেন আট সন্তান প্রসব করেছিল, তাই তাঁরা এখন বিচারাধীন, বাবার ইন্তেকাল হয়েছে, মা কানে শুনতেই পান না। আরেকজনের নাম বাদ গিয়েছে, বাবার নাম চাটার্জি, তিনি আগ বাড়িয়ে শুদ্ধতা ও সনাতনী প্রথা বজায় রেখে তাকে চট্টোপাধ্যায় করেছিলেন, তাই। উনি ভাবছেন কী কুক্ষণে সনাতনীদের ফাঁদে পড়েছিলাম। হ্যাঁ, সেই ৬০ লক্ষ মানুষ যাঁরা এক্কেবারে নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক শর্ত মেনে কেবল ভোটার নন, দেশের নাগরিকও বটে, তাঁদের মধ্যে ৬০ লক্ষ বাদ পড়লেন? কেবল বাদ পাড়েননি, এখন বিডিও অফিস, মহকুমা অফিসে চক্কর কাটছেন, যদি নামটা তোলা যায়। তো সেই বিচারাধীনদেরও ১৫-১৮ লক্ষ বাদ পড়েছে, তাঁদের আপিল করতে হবে, আবার আপিল, আবার কাগজ? কোনও রকমে যদিওবা আপিলের ব্যবস্থা হয়, তাহলেও কি নির্বাচনের আগে তাঁদের নাম উঠবে? যদি না ওঠে তাহলে এই ১৫-১৮ লক্ষ নাগরিক ভোট দিতে পারবেন না? এটাই হল সেই স্পেশ্যাল ইনটেন্সিভ রিভিশন? নাগরিকদের, বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়েই এক নির্বাচনকে মেনে নেবে বিজেপি বিরোধী দলগুলো? তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না কার দোষে? তাঁদের নামের বানান ভুল, তাঁদের ঠিকানা ভুল, তাঁদের সাত আট ভাই-বোন আছে, তার জন্য তাঁরা নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন? অথচ আমাদের সংবিধান বলছে প্রত্যেক বৈধ নাগরিকের অধিকার আছে তার প্রতিনিধিকে নির্বাচন করার। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, এখন এটা পরিস্কার যে নতুন ভোটার তালিকা মেনেই ভোট হলে এ রাজ্যে বৈধ নাগরিকদের অন্তত ১২-১৫ লক্ষ মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার হারাবেন, তাহলে সেই নির্বাচন কে কি আমরা মেনে নেব? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

হ্যাঁ, শুরু তো হয়েছে মোথাবাড়িতে, মানুষ রাস্তায় নেমেছেন সুজাপুর, কালিয়াচকে, কিন্তু এই মুহূর্তের জরুরি প্রশ্ন হল সেটা কি কেবল ওই জায়গাগুলোতেই আটকে থাকবে? এই বিক্ষোভের জনজোয়ার কি সারা বাংলাতে ছড়িয়ে পড়বে না? হ্যাঁ, সেটাই এখন জরুরি। আমাদের সহনাগরিকদের, বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে এই নির্বাচন আমরা মানব কেন? হোক নির্বাচন পুরানো ভোটার লিস্টে, বা বড় জোর ওই খসড়া তালিকা, যা প্রথমে বার করা হয়েছে সেটা মেনে। এই দাবিতে রাস্তায় নামুন, আমাদের গাইডিং স্টার হল দেশের সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, মোদি-শাহের সরকার নয়। কাজেই সেই সংবিধান হাতে নিয়েই এই অগণতান্ত্রিক কাজের প্রতিবাদে রাস্তায় নামুন।

দেখুন আরও খবর:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here