‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি’ ভোটের আবহে নারী দিবসে কেন্দ্রকে কড়াবার্তা মমতার

0
51

ওয়েবডেস্ক-  আজ রবিবার (Sunday) ধর্মতলায় (Dharmatala) তৃণমূল নেত্রীর ধরনার তৃতীয় দিন দিন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায়, অপরিকল্পিত এসআইআরের (SIR) ফলে বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় না রাখার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে শুক্রবার থেকে ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) । সকাল ১০ টা থেক রাত ৮ টা পর্যন্ত চলবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। ধরনা মঞ্চে ২৪ ঘন্টাই থাকছেন তৃণমূল নেত্রী। গ্যাসের দামের বৃদ্ধির (Gas Price Rise) প্রতিবাদে, আজ রাজ্যের সর্বত্র মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) । হাঁড়ি,  কড়াই, বাটি, ঘটি হাতা, খুনতি নিয়ে হবে এই প্রতিবাদ মিছিল।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের (International Women’s Day)  দিনে মহিলারা এই মিছিল করবে। কালো শাড়ি পরে হবে প্রতিবাদ মিছিল। রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ও মহিলাদের ভোট কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে এই মিছিল। আজ সর্বত্র প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই মিছিল।  গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, আজ মিছিল। মহিলারা কালো শাড়ি পরে মিছিল করবেন। হাতে হাড়ি কড়াই থাকবে। খাবো কি এই স্লোগান।

আরও পড়ুন- বাংলার বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই থেকে প্রধানমন্ত্রী, সেখানে রাষ্ট্রপতিও! তোপ অভিষেকের

আর এই দিনই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সেই পোস্টে লিখেছেন, বছরের একটি বিশেষ দিন নয়, আমার কাছে প্রতিটা দিনই নারী দিবস। বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) থেকে কন্যাশ্রী (Kanyashree) সহ মহিলাদের জন্য চালু একাধিক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। পোস্টের শুরুতেই গোটা বিশ্বকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি’। তিনি লিখেছেন, এই মাটি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মাটি, এই মাটি মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি, এই মাটি কল্পনা দত্ত, বীনা দাস, সুনীতি চৌধুরীর মাটি, এই মাটি মাদার টেরেজার মাটি। বাংলার প্রতিটি মেয়েই তাঁর গর্ব বলে জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, সমাজের প্রতিটি স্তরে তাঁদের অবদান অপরিসীম। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, গ্যাসের দাম যে ভাবে বাড়ানো হল, তার প্রভাব পড়বে মানুষের হেঁসেলে। আজ বাংলার মেয়েরা প্রতিবাদে নামবে।

কেন্দ্রকে কটাক্ষ করে তিনি লিখেছেন, আমরা চেষ্টা করি, আমাদের পাশে থাকতে। আর কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ হল মানুষকে হয়রানি করা।‘ রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি লেখেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ। ভাতার পরিমাণও আবার ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে – তপশিলী জাতি ও আদিবাসী পরিবারের মহিলারা এখন মাসে ১৭০০ টাকা এবং অন্যান্যরা মাসে ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে স্মার্টকার্ডটি পরিবারের মহিলা সদস্যের নামে। প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা এই কার্ড পেয়েছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় – সব স্তরেই মেয়েরা কন্যাশ্রী পাচ্ছে।

১ কোটি ছাত্রী এখন কন্যাশ্রী। UNESCO তে সেরার শিরোপা পেয়ে ‘কন্যাশ্রী’ বিশ্বজয়ী। রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৩ লক্ষ মহিলাকে বিবাহের জন্য এককালীন ২৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সবুজসাথী প্রকল্পে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ১ কোটি ৪৮ লক্ষ সাইকেল দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৭৯ লক্ষ মেয়েদের জন্য। মা–বোনেদের ও শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষায় আমাদের সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ করা হয়েছে। মাদার এন্ড চাইল্ড হাব হয়েছে ১৭টি। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ১৩টি ওয়েটিং হাট হয়েছে। এসবের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৮.১% থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৯.১৪%। আজ নারী সুরক্ষায় বাংলা দেশের সেরা। কেন্দ্রীয় সরকারই বলছে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর কলকাতা।

আরও পড়ুন- বাংলার বিরুদ্ধে ইডি, সিবিআই থেকে প্রধানমন্ত্রী, সেখানে রাষ্ট্রপতিও! তোপ অভিষেকের

এই নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে কদিন আগেই কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে পিঙ্ক বুথ’ ও অল-উইমেন ‘SHINING’ মোবাইল পরিষেবা শুরু করা হয়েছে। মেয়েরা রাতবিরেতে যাতে আরো সুরক্ষিত বোধ করে তার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ। নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এর আগেও আমরা অনেক পদক্ষেপ করেছি। ‘অপরাজিতা বিল’ পাশ করা হয়েছে। ৪৯টি মহিলা থানা স্থাপন করা হয়েছে। ২০১১ সালের আগে কোন মহিলা থানা ছিল না।এছাড়া বিচার ব্যবস্থায় গতি আনতে মহিলাদের জন্য ৫২টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে ৫০% মহিলা আসন সংরক্ষণ কার্যকর করেছি আমরা। এমনকি বিধানসভা, লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও আমাদের মহিলা প্রতিনিধির সংখ্যা দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য। ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের আওতায় ১.২১ কোটি মহিলাকে নিয়ে ১২ লক্ষেরও বেশি SHG তৈরী হয়েছে – সারা দেশে যা আর কেউ করতে পারেনি। নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা বাড়ানো হচ্ছে এবং তাঁদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে তাঁদের স্বনির্ভর করা হচ্ছে। আমাদের এই প্রকল্প দেশের মডেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও সংযোজন, ‘রাজ্য সরকারী অফিস, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পঞ্চায়েত ও মিউনিসিপ্যালিটিতে কর্মরত মহিলা কর্মীদের জন্য আমরা ৭৩০ দিন সবেতন Child Care Leave  মঞ্জুর করা হয়েছে। ‘কর্মাঞ্জলি’ প্রকল্পের আওতায় কর্মরত মহিলাদের থাকার জন্য বাংলা জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ১৩টি হস্টেল। আমি এর নাম রেখেছি ‘কর্মাঞ্জলি’।

কবিতার  লাইন তুলে ধরে বলেন, “আমার লক্ষ্মী ঘরে ঘরে জ্বেলেছেন শুভ আলো, আমার লক্ষ্মীরা ভালো থাকুক, হোক বিশ্ববাংলার ভালো।। আমার লক্ষ্মী মা-মাটি-মানুষ, ভয়কে করেনা ভয়, ওরা দুর্জয়, ওরা দুর্গম, ওরা দুরন্তর বরাভয়।। আমার লক্ষ্মী ডানা মেলে কখনো হয় পক্ষী, ওরাই মোদের পাহারাদার, ওরাই মোদের রক্ষী।। আমার লক্ষ্মী চন্দ্র – সূর্য, আকাশে জ্বলে তারা, আমার লক্ষ্মী ধন্য ধান্যে, নবান্নে দিয়ে ভরা।।”

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here