ওয়েব ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Seikh Hasina) সম্ভাব্য দেশে ফেরা ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সে দেশের রাজনীতি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান। সেই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলায় আদালত শেখ হাসিনাকে যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, দেশে ফিরলে সেই রায়ই কার্যকর হবে। তাঁর দাবি, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনও হস্তক্ষেপ নেই। তবে হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত ও দলীয় সিদ্ধান্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পকেটের চাপে থমকে অভিভাবকত্ব! বাংলায় কমছে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা, সমীক্ষায় উদ্বেগ
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই ঘোষণার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও অংশ আওয়ামী লীগকে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও বিএনপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ছাত্র আন্দোলনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা বা সাক্ষাৎকার দেওয়ার কোনও আইনগত অধিকার নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শতাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
