যারা উনিজীকে রাজার আসনে নির্বাচিত করে বসাবেন, মোদিজী (Narendra Modi) আগে তাদেরকে বেছে নিচ্ছেন। মানে যাদের ভোটে জিতে এসে আজ দেশের মন্ত্রীসভা, অঙ্গরাজ্যের সরকার চলছে, এখন তাদের ঝাড়াই বাছাই এর কাজ চলছে। তো ওনারা কী বলে শুরু করেছিলেন? যে এক ইনটেন্সিভ, এক নিবিড় সংশোধন হবে, ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার বা ভোটার হবার যোগ্যতাই নেইকিন্তু ভোটার হয়ে বসে আছে, তাদেরকে বাস দিয়ে এক সংশোধিত তালিকা বানাবে, যারা আগামী নির্বাচনে ভোট দেবে। আমার প্রশ্ন ঠিক সেইখানেই, মহামান্য জ্ঞানেশ কুমার, আপনি সংশোধন করার কথা বলেছিলেন, কিন্তু লক্ষ লক্ষ নাম বিচারাধীন রেখেই ভোট হবে সে কথা তো বলেন নি? প্রথমে খসড়া তালিকা বের হলো, বেশ, সেখানে যদি কারোর কিছু বলার থাকে তাহলে তাঁরা আপিল করবেন, বোঝা গ্যালো, পড়ে রইল কারা? ম্যাপড ভোটার, মানে সেই ভোটার যাঁদের নিজেদের বা তাঁদের বাবা মায়ের নাম আছে ২০০২ এর ভোটার তালিকাতে, তাঁরা পড়ে রইলেন, মানে ওই জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বক্তব্য মেনে তাঁরা কিন্তু নাগরিক, কিন্তু তাঁদের নানান রকমের ভুলের জন্য ক্লারিফিকেশন চাওয়া হয়েছে। তো এইবারে দেখা যাচ্ছে ৬০ লক্ষের ৩০ লক্ষ বিচারাধীনদের থেকে ১২ লক্ষকে আবার বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে যারা ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবে। তার মানে মোট বাদ পড়লো ৭২ লক্ষ ভোটার। তারমধ্যে ১২ লক্ষ ম্যাপড, মানে তাঁরা নাগরিক। আরও ৩০ লক্ষ বিচারাধীনের থেকে যদি এই সংখ্যকই বাদ পড়ে তাহলে কেবলমাত্র বিচারাধীন তালিকা থেকেই বাদ পড়বে ২৪ লক্ষ নাগরিক। সেটাই বিষয় আজকে, ইতিমধ্যেই বাদ ৭২ লক্ষ ভোটার, আরও কত বাদ যাবে?
আসলে এই কাটাকুটি অংকের মাথায় রয়েছে একটাই আদত লক্ষ্য, যে কোনও মূল্যে পেতে হবে বাংলার মসনদ, আর অমিত শাহের কাছে এটা এখন একটা টাস্ক, নিজের মুখ বাঁচানোর। হ্যাঁ এক্কেবারে সেই আওরঙ্গজেবের শাসন কাল, দাক্ষিণাত্যে মারাঠাদের মাথা নোয়াতে পারছেন না, হাজার চেষ্টা করেও পারছেন না, দূর্ঘ ঘিরে রেখেছেন, খাবার থেকে শুরু করে সমস্ত সাপ্লাই লাইন কাটা, কিন্তু মারাঠারা মাথা নোয়াচ্ছে না, মারাঠাদের পরাজিতও করা যাচ্ছে না। শেষ জীবনে এসে আওরঙ্গজেবের এই দাক্ষিণাত্য অভিযানের ব্যর্থতা ঘোচেনি, কিন্তু তিনিও শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর মুখ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। বাংলা এখন অমিত শাহের কাছে ঠিক সেরকম এক রাজ্য, যা থিনি খুব সহজেই জিতে নেবে বলে হাত বাড়িয়েছেন, হাত পুড়েছে, এবং তিনি খুউউব ভাল করে বুঝেছেন যে বঙ্গ বিজেপির সাধ্য নেই এই লড়াই জেতার, তিনি জানেন দলের সেই সংগঠন নেই, দলের সেই অ্যাকসেপট্যান্স গড়ে ওঠে নি, জানেন যে বাংলার সংস্কৃতি আর এস এস – বিজেপিকে মেনে নেবে না। বেশ কিছু মিরজাফর, জগৎশেঠ রায়দূর্লভ জোগাড় করার পরেও হিসেব মিলছে না। তাই সবচেয়ে সোজা হিসেবে নেমেছেন তিনি, তাঁর নির্দেশেই এবারে তৈরি হচ্ছে ভোটার লিস্ট, যে লিস্ট দিয়ে তিনি বাংলা জেতার খয়াব দেখছেন। হ্যাঁ সত্যিই তো ২৪ লক্ষ মানুষ মানে ভোটার সংখ্যার ৩-৪%, তারা বাদ পড়লে হার জিতের হিসেবে ফারাক আসতেই পারে। ভোটের হিসেবে ২০২১ এ তৃণমূল পেয়েছিল প্যায় ২কোটি ৯০ লক্ষ ভোট, আর বিজেপি পেয়েছিল ২কোটি ৩০ লক্ষ ভোট, মানে ভোটের ফারাক মাত্র ৬০ লক্ষের। তার মধ্যে ২৪ লক্ষ কি কম কথা। আবার এই ২৪ লক্ষের সিংহ ভাগ মুসলমান ভোট কাজেই বিজেপির উল্লাসের কারণ আছে বৈকি। কাজেই এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম আর একমাত্র দাবি হওয়া উচিত একজনও বৈধ ভোটারকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করানো যাবেই না। নিবিড় সংশোধন করার কথা হয়েছিল, বিচারাধীন বলে বাদ দিয়েই নির্বাচন হতে পারে না, এটা প্রথমে বলতে হবে। কিন্তু তারপরের কিছু তথ্য দিই, গাইঘাটা, হাবড়া, নদিয়ার বেশ কিছু বিধানসভায় বিরাট সংখ্যক মতুয়াদের নামও এই একই তালিকাতে নেই, গতকাল রাত থেকে সেখানেও শুরু হয়েছে হলচল। অমিত শাহ বা জ্ঞানেশ কুমার বোধহয় খেয়াল করেন নি বা ভুল অংক কষেছেন, সেই ভুল অংকের খেসারত ওনাদেরকে দিতে হবে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, আমাদের ২৪ লক্ষ সহনাগরিককে বাদ দিয়েই কি আমরা নির্বাচনে যাবো? সেটা কি গণতন্ত্রের পক্ষে এক সুস্থ সুবিচার করা হবে? শুনুন মানুষ জন কী বলছেন।
আরও পড়ুন: Aajke | নির্বাচন কমিশনের ষড়যন্ত্র ফাঁস
যে অঙ্ক কষতে গিয়ে ভুল করেছেন অমিত শাহ আরএসএস – বিজেপি তা হল হ্যাঁ এটা ঠিক যে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে ১৫৭ টা আসনে টি এম সি জিতেছে ১২৭ টা আসনে, বিজেপি জিতেছে ৩০ টা আসনে, কিন্তু ওই ১২৭ টা তৃণমূলের জেতা আসনে ফারাক ১০% – ৩০ %, আর ওই ৩০ টা আসনে যেখানে বিজেপি জিতেছে সেখানে ফারাক গড়ে ৩% থেকে ৭%। কাজেই এই এসআইআর এর বাঁদরামি ব্যুমেরাং হবে, হ্যাঁ আওরঙ্গজেব কবরে যাবার আগে দেখে যেতে পারেন নি মারাঠাদের পরাজয়, মাথায় রাখুন অমিত শাহ, তারপরে আবার হিসেব কষতে বসুন।

