ওয়েব ডেস্ক: এয়াররুটে দ্রুত গড়ে উঠছে এক নতুন নতুন অবকাঠামো। একটি ‘ডিজিটাল মহাসড়ক’, যা ভবিষ্যতে ডেটা, যোগাযোগ এবং শক্তি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে লো আর্থ অরবিট (LEO Satellites), পৃথিবী থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত মহাকাশের স্তর (Space Economy), যা এখন প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেমন পৃথিবীতে বন্দর, সাবমেরিন কেবল বা বিদ্যুৎ গ্রিড কৌশলগত সম্পদ, তেমনই ভবিষ্যতে কক্ষপথে প্রবেশাধিকারও বড় শক্তির উৎস হয়ে উঠবে। সেই কারণেই এই খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে বিনিয়োগ ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, বাজারে তাণ্ডব! ১৫০০ পয়েন্ট ধস সেনসেক্সে
LEO স্যাটেলাইটের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল,
- দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিশন
- কম ল্যাটেন্সি
- তুলনামূলক কম খরচে উৎক্ষেপণ
জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটের মতো স্থির না থেকে, একাধিক স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রায় গোটা পৃথিবীতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ইলন মাস্কের SpaceX। তাদের Starlink প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৯,৫০০-র বেশি স্যাটেলাইট কক্ষপথে রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে আরও হাজার হাজার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি মহাকাশে বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরির ভাবনাও চলছে।
অন্য দিকেও প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। একাধিক সংস্থা হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে। ২০০৯ সাল থেকে মহাকাশ অর্থনীতিতে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যার বড় অংশই এসেছে আমেরিকা থেকে।
তবে এই দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকিও। মহাকাশ আবর্জনা, সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন এই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

