কলকাতা: আজ ৪ জুন রবিবার জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রার পুন্য তিথি। রথের আগে জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে শ্রীজগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা পালিত হয়। সেই উপলক্ষেই নদীয়ার ইসকন মায়াপুরের রাজাপুর জগন্নাথ দেবের মন্দিরে স্নানযাত্রা পালিত হচ্ছে। জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে বহুভক্ত সাধারণ মানুষ এই স্নান যাত্রা উপলক্ষে হাজির হয়েছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন পুজো আচার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দুদিন ব্যাপী জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা।
এদিকে মাহেশে অনুষ্ঠিত হল ৬২৭ বছরের প্রভু জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা। স্নান মঞ্চে ২৮ করা গঙ্গাজল এবং দের মন দুধ দিয়ে প্রভু জগন্নাথ দেব, বল ভদ্র এবং মা সুভদ্রা কে স্নান করানো হয়। এ বছরই প্রথম স্নান মঞ্চে নিয়ে আসার আগে প্রভুর গজবেশ ধারণ করানো হয়। উৎকল মতে স্নানযাত্রায় গজবেশ ধারণ করানো একটি প্রাচীন রীতি, যদিও মাহেশে এই গজবেশ এবার প্রথম।
আরও পড়ুন: Weather Update | পুড়ছে বাংলা, চলবে তাপপ্রবাহ, এই জেলাগুলোতে রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস
স্নানযাত্রার উপলক্ষে মাহেশে এদিন ছিল সাজো সাজো রব। সাত সকালেই স্নানযাত্রা প্রত্যক্ষ করার জন্য প্রচুর মানুষের ভিড় জমে ছিল স্নান পিড়ির মাঠে। জোরদার করা হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। স্নানযাত্রা দিন থেকেই প্রভুর জ্বর আসে এই সময়টাকে বলা হয় অনবসর কাল। এই সময় মূল মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। ভিতরে গর্ভ গৃহে চলতে থাকে প্রভুর অঙ্গরাগ। এখন থেকে ঠিক ১৫ দিন পর মন্দিরের দরজা পুনরায় খোলা হয়। নবযৌবন উৎসবের মাধ্যমে পুনরায় তবু স্বমহিমায় ভক্তদের দর্শন দেন। পরদিন রথে চেপে পাড়ি দেন মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।
এদিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয় পুরীর জগন্নাথ ধামে। ১০৮ টি সোনার ঘটিতে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা তিন বিগ্রহকে স্নান করানো হয়। জগন্নাথ মন্দিরের উত্তর দিকের কূপ থেকে তোলা বিশুদ্ধ জল দিয়ে ধোয়ানো হয় বিগ্রহ। কথায় আছে জগন্নাথের এই পুন্য স্নানযাত্রা দেখলে সমস্ত পাপ ধুয়ে যায়। প্রচলিত রীতি অনুসারে এই স্নানযাত্রার পর তিন ভাই বোনের জ্বর আসে আর সেই সময় মন্দির বন্ধ রাখা হয় দর্শনার্থীদের জন্য।
অন্যদিকে ১০৮ কলস জলে শতসহস্র ধারায় রাজ আমলের কুলদেবতা মদনমোহন দেবের স্নান যাত্রার সম্পন্ন হল। মদনমোহন মন্দিরের মদনমোহন দেবের মহা স্নানযাত্রা সম্পন্ন হলো। এদিন মদনমোহন দেবের নিত্যদিনের স্নান ও পুজোর পর মদনমোহন বিগ্রহ মদনমোহন মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বারান্দায় নিয়ে এসে ডাবের জল, গঙ্গাজল, ঘি, মধু, দুধ, দই, চিনি, চন্দন, তুলসী পাতা, গোলাপজল সহ সুগন্ধি দ্রব্য সংমিশ্রণে মোট ১০৮ কলস জলে মহাস্নান সম্পন্ন হয়। মন্দিরে রাজা আমলের নিয়ম রীতি মেনে এই স্নানযাত্রা সম্পন্ন করেন মন্দিরের রাজপুরোহিত হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য পুরোহিতরা। তারপর সেখান থেকে মন্দিরের গর্ভগৃহে মদনমোহন দেবকে সাজিয়ে গুজিয়ে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করা হয়। এরপরে নিত্যদিনের মত পুজো, হোম যজ্ঞ অন্নভোগ মদনমোহনদেব কে নিবেদন করা হয়। এই স্নানযাত্রা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই সময় থেকেই কুমোরটুলিতে বায়না হয়ে যায় দুর্গাপ্রতিমার। রথের রশিতে টান দিয়েই দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়।