প্রথম দর্শনেই মনে হবে কোন মন্দির (Temple)? অবিকল দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের মতো দেখতে। কিন্তু এটা দক্ষিনেশ্বরের মন্দির নয়, এটা ব্যরাকপুরের (Barrackpore) অন্নপূর্ণা মন্দির। উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুরেই রাসমনি ঘাটে রয়েছে এই অন্নপূর্ণা মন্দির। মন্দির প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে রয়েছে এক কাহিনি।
মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন রানি রাসমনির ছোট মেয়ে জগদম্বা দেবী। রানি রাসমনির জামাই মথুর বিশ্বাস তাঁর প্রথমা স্ত্রী করুণাময়ীর (রানি রাসমনির সেজ মেয়ে) মৃত্যুর পর জগদম্বা দেবীকে বিবাহ করেন। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব ১৮৭৫ সালের ১২ এপ্রিল (৩০ চৈত্র, ১২৮১ বঙ্গাব্দ) এই মন্দির উদ্বোধন করেন। অন্নপূর্ণার এই মন্দিরের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণীর ‘নবরত্ন’ মন্দিরের খুবই সাদৃশ্য আছে। দুটি মন্দিরই একই স্থপতির পরিকল্পনায় তৈরী।
আরও পড়ুন: Kolkata Rainfall | Thunderstorm Incident | ঝড়বৃষ্টিতে গাছ ভেঙে বিপর্যয় শহরে, তাণ্ডব দক্ষিণবঙ্গেও
দক্ষিণেশ্বরে মন্দির প্রতিষ্ঠার ঠিক ২০ বছর পরে ১৮৭৫-এর ১২ এপ্রিল চাণক-এ অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। এই চাণকই হল আজকের ব্যারাকপুর। মন্দির প্রতিষ্ঠার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁদের পুত্র দ্বারিকানাথ বিশ্বাস। তৈরি হয়েছিল পঙ্খের কাজ যুক্ত ন’টি চূড়া বিশিষ্ট নবরত্ন মন্দির, বৃহৎ নাট মন্দির, ছ’টি আটচালার শিবমন্দির, দু’টি নহবৎখানা, গঙ্গার ঘাট, ভোগের ঘর ইত্যাদি। এতে সে যুগে খরচ হয়েছিল প্রায় তিন লক্ষ টাকা। ছ’টি শিব মন্দির যথাক্রমে কল্যাণেশ্বর, কাম্বেশ্বর, কিন্নরেশ্বর, কেদারেশ্বর, কৈলাসেশ্বর, ও কপিলেশ্বর।
দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের চেয়ে এই মন্দির উচ্চতায় কিছুটা বেশি হলেও দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে কিন্তু কম। মন্দিরে অধিষ্ঠিত শিব ও অন্নপূর্ণার বিগ্রহ অষ্টধাতুর তৈরি। দেবীকে পরানো হয় বেনারসি শাড়ি ও স্বর্ণালঙ্কার। দেবীর চালচিত্র ও সিংহাসন রুপোর তৈরি। প্রতি মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বিশেষ পুজো হয়। মন্দিরে প্রতি দিন অন্ন ভোগ হয়। বিশেষ উল্লেখযোগ্য, দেবী অন্নপূর্ণার ভোগে প্রতি দিন মাছ থাকা আবশ্যিক। মন্দিরে মূল অন্নকূট উৎসব হয় কালীপুজোর পরের দিন। এ ছাড়াও অন্নকূট হয় অন্নপূর্ণাপুজোর দিন। আগে পাঁঠাবলি হলেও এখন তা বন্ধ। তবে অন্নপূর্ণাপুজো ছাড়াও মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস (চৈত্র সংক্রান্তি), মঙ্গলচণ্ডী পুজো, বিপত্তারিণী পুজো, অম্বুবাচী, জন্মাষ্টমী, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোয় বিশেষ পুজো হয়ে থাকে।