কলকাতা: আইপ্যাকের (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে ইডি (ED) অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার ইডির দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এরপরই ইডি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যেতে পারে, এমন জল্পনার মধ্যেই আগেভাগে ক্যাভিয়েট দাখিল করল রাজ্য সরকার।
শনিবার সুপ্রিম কোর্টে এই ক্যাভিয়েট জমা দিয়েছে রাজ্য। উদ্দেশ্য একটাই, ইডির তরফে কোনও একতরফা শুনানি যাতে না হয়। আইনি মহলের মতে, সুপ্রিম কোর্টে যদি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আবেদন করে, তাহলে রাজ্যকে শুনানির সুযোগ দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন: ফের অনেকটা বাড়ল সোনার দাম! কলকাতায় দাম কত?
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের দিল্লির কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালার বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, বিজেপি ভোটের রণকৌশল ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডিকে ব্যবহার করছে। এরপর ইডি অভিযানের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে তৃণমূল।
অন্যদিকে তদন্তে বাধার অভিযোগ তুলে পালটা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দুই মামলার শুনানি উঠলেও তুমুল বিশৃঙ্খলায় তা ভেস্তে যায়। আদালত জানায়, আগামী ১৪ জানুয়ারি মামলার শুনানি হবে।
এরপর প্রধান বিচারপতির এজলাসে দ্রুত শুনানির আবেদন জানায় ইডি, এমনকি পৃথক বেঞ্চ গঠনের দাবিও করা হয়। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়, ১৪ জানুয়ারিতেই শুনানি হবে। এই অবস্থায় সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করতে পারে ইডি—এমন খবরের মাঝেই রাজ্যের তরফে আগাম ক্যাভিয়েট দাখিল করে একতরফা শুনানি রুখতে আইনি চাল চালা হল।