আইফোনে (iPhone) আসছে ইউএসবি-সি (USB-C)। লাইটনিং কানেক্টরকে (Lightning Connector) এবার অবসর দিতে চলেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড (Apple Inc.)। এরকমই নিশ্চয়তা এসেছে অ্যাপল তরফে। অ্যাপল আইফোনের জনপ্রিয়তার অন্যতম বিষয় হল তাদের উদ্ভাবন (Innovation) ক্ষমতা। আইফোনের হোম বাটন (Home Button) এবং লাইটনিং কানেক্টর তার অন্যতম উদাহরণ। কিন্তু আইকনিক হোম বাটনকে প্রিমিয়াম আইফোনের ক্ষেত্রে অনেকদিন আগেই বিদায় জানিয়েছে অ্যাপল। আইফোন টেন (iPhone X) থেকে যতগুলি প্রিমিয়াম আইফোন লঞ্চ করেছে অ্যাপল, তার সবকটিতে এজ-টু-এজ ডিসপ্লে (Edge to Edge Display), সোয়াইপ জেসচার (Swipe Gesture) থাকায় আর দরকার নেই ক্লাসিক হোম বাটনের। বিগত পাঁচ বছরে অ্যাপল অনেক কিছুই পরখ করেছে, তার মধ্যে ওয়ারলেস চার্জিং একটা বড় উদ্ভাবন। কিন্তু কিছুতেই ইউএসবি-সি চার্জিং কেবল আইফোনে আনছিল না অ্যাপল। কিন্তু এবার শেষমেশ বাধ্য হয়েই আইফোনে ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট অন্তর্ভুক্ত করছে মার্কিন এই টেক সংস্থা।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন (Android Phone)-এর বাজারে বেশ কয়েক বছর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট। লোকজনের চাহিদা এবং আধুনিকতার সঙ্গে এগিয়ে চলতে আইপ্যাডেও ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট এনেছে অ্যাপল। ব্যতিক্রম শুধু আইফোন। ২০২২ সালে এসেও লাইটনিং কানেক্টর আইফোনের সঙ্গে। অ্যাপলের যুক্তি ছিল, লাইটনিং কানেক্টর না থাকলে উদ্ভাবন কমে যাবে। কিন্তু মানুষ একাধিক স্মার্ট ডিভাইস (Smart Device) ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন জিনিসের জন্য একাধিক চার্জার নিয়ে বেরনো অনেকটাই ঝক্কির। সেই কথা মাথায় রেখেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অ্যাপলকে বলে দেওয়া হয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে অ্যাপল এবং অন্যান্য যে কোনও সংস্থাই হোক, মোবাইল, ট্যাবলেট, ওয়্যারলেস হেডফোন – সবক্ষেত্রেই থাকতে হবে একটাই চার্জার ইউএসবি-সি। আর ২০২৬ সালের মধ্যে ল্যাপটপেও দিতে হবে এই সুবিধা। না দিতে পারলে ইউরোপের বাজারে বিক্রি করা যাবে না কোনও প্রোডাক্ট। তাতেই চাপে পড়েছে অ্যাপল।
আরও পড়ুন: Jamuna Dhaki Rubel Shweta: ছোট পর্দার প্রেম আবার রিয়েল লাইফে
ওয়ার্ল্ড স্ট্রিট জার্নালের টেক লাইভ ইভেন্টে অ্যাপলের ওয়ার্ল্ডওয়াইড মার্কেটিং-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রেগ জসউইয়াক জানিয়েছেন, আইফোন ইউএসবি-সি চার্জিং সুবিধা আসতে চলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন মেনে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, “অবশ্যই আমাদের মানতে হবে। কারণ আমরা সব জায়গাতেই স্থানীয় আইন মেনে চলি।” যদিও ঠিক কবে আসতে চলেছে, তা জানানো হয়নি সংস্থার তরফে।
উল্লেখ, ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট নিয়ে অ্যাপল নিজেই প্রথম থেকে দাবি তুলে আসলেও, ২০১২ সালে লাইটনিং চার্জার নিয়ে আসে অ্যাপল। তারপর থেকে গত দশ বছরে কোনও পরিবর্তন হয়নি। গত সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৪ সিরিজের লেটেস্ট মডেল বাজারে এনেছে অ্যাপল, সেখানেও একই লাইটনিং পোর্ট এবং চার্জিং কেবল। এদিকে, ২০২৪ সাল থেকে অ্যাপলকে বদল আনতে হবে। অতএব, ২০২৩ সালে আইফোন ১৫ (iPhone 15) সিরিজের মাধ্যমে অ্যাপল ইউএসবি-সি পোর্ট আনবে আইফোনে, নাকি ২০২৪ সালে আইফোন ১৬ সিরিজের মাধ্যমে, সেটা সময়ই বলবে। অনেকাংশের দাবি, অ্যাপল হয়ত আগামী দিনে শুধু ইউরোপীয় বাজারের জন্য ইউএসবি-সি দেওয়া আইফোন আনতে পারে। কেন না, এবছর তারা শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের জন্য ই-সিম সুবিধাযুক্ত আইফোন এনেছে। কিন্তু ভারতের মতো অন্যান্য দেশের জন্য সিম ট্রে’র বন্দোবস্ত রেখেছে। তবে অ্যাপল তার লেটেস্ট মডেলের বাজেট আইপ্যাডেও ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে অনেকেই বলছেন, আইফোনের সব মডেলেই লাইটনিং পোর্ট ছেড়ে ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এমনকি, অ্যাপল তার বাজেট মডেল আইফোন এসই ৪ থেকে হোম বাটনকে অবসর দিতে চলেছে ন্যারো বেজেলের ফুলস্ক্রিন ডিসপ্লে (Full Sceen Display) সুবিধা যোগ করতে।