ওয়েবডেস্ক- জীবন সংগ্রাম, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, শৈশবেই কেরিয়ারে হাতেখড়ি। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকরের (Dinanath Mangeshkar) চলে যাওয়া ছোট ভাই-বোনেদের নিয়ে অথৈ চলে পড়েছিল মঙ্গেশকর পরিবার। সেই শৈশব তাঁকে বুঝিয়েছিল কঠিন সংগ্রামে নামতে হবে। মাত্র ৯ বছর বয়সে কেরিয়ার শুরু করেন আশা ভোঁসলে। আর ১০ বছর বয়সে প্রথম মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল আশাকে। কী হয়েছিল সেদিন?
সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎ দিতে গিয়ে সেই সময় আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) বলেছিলেন, “আমার বয়স তখন ১০ বছর, আর সালটা ১৯৪৩। ওটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম গান, যেখানে আমাকে মাইক্রোফোনের (MicroPhone) সামনে দাঁড়িয়ে গাইতে হয়েছিল। তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। মাইক্রোফোন কী জিনিস, সেটাই আমি জানতাম না।‘
আশা আরও জানিয়েছিলেন, এর কোনো কিছুই আমার কাছে পরিচিত ছিল না, মাইক কী বা এতে কীভাবে গান গাইতে হয়। আমার বাবা গান রেকর্ড করতেন। যখন আমি আমার প্রথম গানটি গাই, তখন আমার মনে হয়েছিল যে আমিও গাইতে পারি। শুধু আমার বড় বোনই গান গাইত, কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম যে আমিও এটা করতে পারি।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়েছিল যে আমরা ভাইবোনেরা সবাই গান গাইতে পারি। সেখান থেকেই আমার যাত্রা শুরু, এবং আমি তখন থেকেই এখানে দাঁড়িয়ে আছি। চলচ্চিত্র জগতে কাজের ধরন এমন যে, আপনি যদি সকাল ১০টায় স্টুডিওতে পৌঁছতাম, তবে আপনাকে রাত ১০টা বা ১১টার আগে ছুটি দেওয়া হয় না, কখনও কখনও এমনকি সকাল ৮টায়ও।”
আরও পড়ুন- ১৬ বছরে পালিয়ে বিয়ে, সুখ ছিল না প্রথম দাম্পত্যে! দেখুন আশার জীবনের এক অজানা অধ্যায়
এর পরবর্তী অধ্যায়ে বাকিটা ইতিহাস। প্রায় ২০টি ভাষায় ১২,০০০-এরও বেশি গান গেয়ে অনন্য রেকর্ডধারী এই গায়িকা সেদিন অত্যন্ত সরলতার সঙ্গে তাঁর প্রথম দিন গানের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন।
রবিবার ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত আশা ভোঁসলে। এক অধ্যায়ের শেষ।
আশা ভোঁসলে ২০টি ভিন্ন ভাষার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। হিন্দি ও মারাঠি ছাড়াও তিনি পাঞ্জাবি, তামিল, ইংরেজি, অসমীয়া, উর্দু, তেলুগু, বাংলা, গুজরাটি, রুশ, চেক, নেপালি এবং মালয়ালম ভাষায় গান গেয়েছেন।
