ওয়েবডেস্ক- নির্বাচনীর (Assembly Election 2026) প্রচারের আবহে মহিলা সংরক্ষণ বিল (Women’s Reservation Bill) পাশ করাতে সব রাজনৈতিক দলগুলির কাছে চিঠি দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সংসদে অধিবেশন ডেকেছে মোদি সরকার (Modi Government) । আগামী ১৬, ১৭, ১৮ এপ্রিলে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে, হুইপ জারি করেছে (whip) বিজেপি (Bjp) ।
সংসদের দুই কক্ষেই বিজেপি হুইপ জারি করেছে। মহিলা আসন সংরক্ষণ বিলের সংশোধনীতে সমর্থনের আবেদন করে শনিবারই সব রাজনৈতিক দলকে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রের এই আচরণকে কটাক্ষ করলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) । তিনি বলেন, এই নতুন বিলের আড়ালে আসলে গণতন্ত্রকে হত্যার চেষ্টা চলছে। আঘাত আসতে চলেছে ভারতীয় সংবিধানের উপরে। মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ হল একটি ঐতিহাসিক আইন, যার মাধ্যমে ভারতের লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ (এক-তৃতীয়াংশ) আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- সপ্তাহের শুরুতেই বড়সড় ধস শেয়ার বাজারে! ১৬০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই আইনের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা একটি খসড়া সংশোধনী বিলের অনুমোদন দিয়েছে।
বিলটি পাশের জন্য ভারতের সংসদে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া বিলে উল্লেখ ছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই সংশোধনী নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া। কংগ্রেস নেত্রীর প্রশ্ন, ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। সেটাকে ইচ্ছাকৃত ভাবে পিছিয়ে দিয়েছে মোদি সরকার। অতীতে জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস হয়ে এসেছে। কিন্তু মোদি সরকার চাইছে, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস হোক। জাতি গণনার কোনও প্রভাব যেন আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে আদম সুমারির রিপোর্ট প্রকাশ আরও পিছিয়ে দিতে পারে প্রধানমন্ত্রী। সোনিয়ার আশঙ্কা, এইভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হলে বহু রাজ্যের গুরুত্ব কমতে পারে। বিল পাশ করাতে কেন্দ্রের এত হুড়োহুড়ি কিসের জন্য? সম্পাদকীয়তে সোনিয়া লিখেছেন, কংগ্রেস চেয়েছিল ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর হোক মহিলা সংরক্ষণ। সেটা কেন্দ্র হতে দেয়নি। যখন দুই রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে প্রচার জোরকদমে, সেই সময় কেন বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র? বাদল অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করা গেল না কেন? সোনিয়ার কথায় অধিবেশন ডাকা হলেও সাংসদদের এখনও জানানো হয়নি, ঠিক কী কী বিষয়ে এই অধিবেশনে? সোনিয়ার আশঙ্কা আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে কোনও প্রস্তাব পেশ হবে আর সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে সেই প্রস্তাব পাশ করিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার।
