রাষ্ট্রপতির অভিযোগ নিয়ে সরব মোদি! ‘লজ্জাজনক’, তৃণমূল সরকারকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

0
45

নয়াদিল্লি: উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। শনিবার শিলিগুড়িতে (Siliguri) আদিবাসী সম্মেলনে যোগ দিতে এসে অনুষ্ঠানস্থল বদল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্দেশে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “মমতা বোধহয় রাগ করেছেন। তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।”

এবার সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এটি লজ্জাজনক এবং অভুতপূর্ব। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।”

আরও পড়ুন: ‘মমতা বোধহয় রাগ করেছেন’! উত্তরবঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল বদলে আক্ষেপ রাষ্ট্রপতি মুর্মুর

তিনি আরও লিখছেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য তাদের প্রশাসনই দায়ী। এটিও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাঁওতাল সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতো হালকাভাবে দেখছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”

উল্লেখ্য, প্রতি বছর আদিবাসী সম্প্রদায়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন তাঁদেরই প্রতিনিধি হিসেবে দেশের রাষ্ট্রপতি। এ বছর শিলিগুড়ির বিধাননগরে সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন কারণে রাষ্ট্রপতির মূল কর্মসূচির স্থান বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে সভাস্থল নির্ধারণ করা হয়।

শনিবার দুপুরে সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, দর্শকের সংখ্যা খুবই কম। সেই নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্য, “বিধাননগরে অনুষ্ঠান হলে অনেক মানুষ আসতে পারতেন। সেখানে যথেষ্ট জায়গাও রয়েছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন কেন সেখানে অনুমতি দিল না, তা আমি জানি না। এমন জায়গায় অনুষ্ঠান হচ্ছে, যেখানে মানুষের আসাই কঠিন।”

গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠান শেষে পরে বিধাননগরে আদিবাসীদের মূল সমাবেশে যান রাষ্ট্রপতি। সেখান থেকেই তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি খুব ভালোবাসি। কিন্তু আজ আমাকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী আসেননি।”

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here