নয়াদিল্লি: ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের আঁচ চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারতের। এই যুদ্ধের প্রভাবে ইতিমধ্যেই এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতি (West Asia Crisis) নিয়ে লোকসভায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিক্ষেত্রও। তবে এই পরিস্থিতিতে সবরকম ভাবে কৃষকদের পাশে আছে সরকার, আশ্বাস দিলেন তিনি। এছাড়াও সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথাও জানান মোদি।
সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ বার্তা দিলেন ‘বন্ধু’ ইরানকে। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর হামলা মেনে নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে আমেরিকার ‘যুদ্ধ’ নিয়েও তিনি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। সেই অবস্থার নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখা কিংবা পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালানো একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। কূটনৈতিক ভাবে ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে কেন্দ্র লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।তাঁর কথায়, এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ভারতে আসে, ফলে এই রুটে অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিকভাবেই বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন: হরমুজ থেকে জাহাজ আসছে? পার্লামেন্টে বিরাট মন্তব্য নরেন্দ্র মোদির
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে জ্বালানি সঙ্কট। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার লোকসভায় এই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। বলেন, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে, LPG ও পেট্রল-ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের কাছে বর্তমানে ৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, ভারত ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ফলে এক বা একাধিক উৎসে সমস্যা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তার মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে মোদি বলেন, আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে এবং সমস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে অঞ্চলে এই সংঘাত চলছে, সেই অঞ্চল বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশেষ করে আমাদের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে।’ তাঁর কথায়, পরিস্থিতি জটিল হলেও ভারত আগেভাগেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে জ্বালানির সরবরাহে বড় ধাক্কার আশঙ্কা কম।
প্রধানমন্ত্রী এদিন জানালেন, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য তেল, গ্যাস, ফার্টিলাইজার বাহী জাহাজ সুরক্ষিতভাবে দেশে পৌঁছয়। আমাদের চেষ্টার ফলেই হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা একাধিক জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছেছে।সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে বার্তা দিতে হবে। এই সঙ্কট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জরুরি বলেই তিনি মনে করেন।একই সঙ্গে, বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়েও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকেই সরকার প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিককে সাহায্যের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষেরও বেশি ভারতীয় দেশে ফিরে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিনি পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের দেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

