‘মহিলাদের এর পরে কেউ নিয়োগ করবে না…’, পিরিয়ড লিভ নিয়ে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

0
28

নয়াদিল্লি: কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিরিয়ড (Period Leave) চলাকালীন মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক বেতনভুক্ত ছুটির দাবিতে করা একটি আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুক্রবার শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, এ ধরনের আইন বাধ্যতামূলক করা হলে উল্টে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।তবে আবেদন পুরোপুরি খারিজ করলেও আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে। আদালতের মতে, বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার চাইলে মাসিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের সুবিধা নিয়ে কোনও নীতি তৈরি করতে পারে।

ঋতুস্রাব চলাকালীন সবেতন ছুটি অর্থাৎ মেনস্ট্রুয়াল লিভ বাধ্যতামূলক ভাবে (Mandatory Menstrual Leave) চালু হলে তা আদতে মহিলাদের কেরিয়ারের জন্য ক্ষতিকর। বাধ্যতামূলক ‘পিরিয়ড লিভ’ (Period Leave) চালুর বিষয়ে এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Chief Justice Surya Kant) এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর (Justice Joymalya Bagchi) ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁদের মতে, প্রতি মাসে মহিলা কর্মীকে বাধ্যতামূলক ভাবে ছুটি দিতে সংস্থাকে বাধ্য করলে, মহিলা কর্মী নিয়োগের হার আরও কমার আশঙ্কা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: LPG-র সংকট! মুড়ি-মুড়কির মতো বিকোচ্ছে ইন্ডাকশন! চাহিদায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ?

আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেন। সেখানে দাবি করা হয়, কর্মক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া মেয়েদের মাসিকের সময় নির্দিষ্ট ছুটি দেওয়ার নিয়ম চালু করতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হোক।শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, মাসিক নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটিকে আইনি বাধ্যবাধকতা করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।প্রধান বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “মাসিকের জন্য যদি আইনে বাধ্যতামূলক ছুটির বিধান করা হয়, অনেক নিয়োগকর্তা মহিলাদের চাকরিতেই নেবেন না। কর্মক্ষেত্রে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় কম সক্ষম।অনেক নিয়োগকর্তা তখন মহিলাদের নিয়োগই করতে চাইবেন না।” একই সঙ্গে আদালত আবেদনকারীর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে। প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনও মহিলা ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হননি, অথচ একজন পুরুষ এই আবেদন করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের আবেদন তরুণীদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করতে পারে যে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই পুরুষদের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে।আবেদন পুরোপুরি খারিজ করলেও আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here