কোমায় স্বামী, তবু মাতৃত্বের স্বপ্ন দেখছেন…শুক্রাণু সংরক্ষণে হাইকোর্টে দ্বারস্থ স্ত্রী

0
40

নয়াদিল্লি: জীবন যেন থমকে আছে হাসপাতালের বিছানায়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় (Coma) আচ্ছন্ন স্বামী, কৃত্রিম জীবনদায়ী ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে চলছে তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস। চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। তবু এই অন্ধকারের মধ্যেই মাতৃত্বের আলো দেখতে চান তাঁর স্ত্রী।

দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) দ্বারস্থ হয়ে ওই মহিলা আবেদন জানিয়েছেন, স্বামীর শুক্রাণু সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হোক। তাঁর যুক্তি, স্বামী না থাকলেও তাঁদের সন্তান ভবিষ্যতে তাঁদের সম্পর্কের একমাত্র সেতু হয়ে থাকবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে, তাই দ্রুত এই প্রক্রিয়া শুরু করা জরুরি।

আরও পড়ুন: চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিহারে, হাইটেনশন টাওয়ারে উঠে পড়লেন প্রেমিকা! কারণ কী?

আবেদনকারীর আইনজীবী অর্জিত গৌর আদালতে জানান, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ওই ব্যক্তি। দিন যত যাচ্ছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেরি হলে মা হওয়ার সম্ভাবনাও হারিয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্বারা কী সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সার্জিক্যাল স্পার্ম রিট্রিভাল’ পদ্ধতিতে কোমায় থাকা রোগীর শরীর থেকেও শুক্রাণু সংগ্রহ করা সম্ভব। আইভিএফ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতিতে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু নিয়ে তা মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করা হয়, যা বহু বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

আইন বনাম মানবিকতা, কোনদিকে আদালত?

এখানেই জটিলতা। ২০২১ সালের ভারতীয় প্রজনন আইন অনুযায়ী, শুক্রাণু সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে দম্পতির পারস্পরিক সম্মতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু স্বামী যখন সংজ্ঞাহীন, তখন তাঁর সম্মতি কীভাবে ধরা হবে? স্ত্রীর একার সম্মতি কি যথেষ্ট, এই প্রশ্নই এখন আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে।

আইন অনুযায়ী, মরণোত্তর শুক্রাণু সংগ্রহের ক্ষেত্রে পূর্বানুমতি থাকলে তা সম্ভব। কিন্তু জীবিত অথচ অচেতন ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে এই মামলাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি।

দেশজুড়ে নজর আদালতের রায়ে…

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ৯ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। মাতৃত্বের অধিকার, নাকি আইনের কঠোর বিধান, কোনটি প্রাধান্য পাবে? এক নারীর ব্যক্তিগত লড়াই এখন বৃহত্তর আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে গোটা দেশকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here