ওয়েব ডেস্ক : গোটা ঘর ছিল এলমেলো। বিছানার উপরে পড়েছিল পাঁচ ফুট লম্বা সাপের একটি খোলস। ওই ঘরে যে তরুণী থাকতেন, তিনি উধাও হয়েছিলেন। তার পরেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল, ওই তরুণী নাকি ইচ্ছাধারী নাগিনে পরিনত হয়েছে। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) অরাইয়ার সিঙ্গনপুর গ্রামে। সেই নাগির রহস্যের (Nagin Mystery) ঘটনায় এবার এল নতুন মোড়। কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর সামনে এসে ২১ বছরের তরুণী রীনা দাবি করলেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় পালিয়েছেন। প্রেমিককে বিয়ে করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে। পরিবারের দাবি, সেদিন হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান রীনা। পরদিন সকালে তাঁর বিছানায় পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা সাপের খোলস, সঙ্গে ছিল চুড়ি, আংটি ও পোশাক। এই অস্বাভাবিক দৃশ্য ঘিরে এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গুজব। অনেকেই দাবি করতে থাকেন, তরুণী নাকি ‘নাগিনে’ রূপান্তরিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে আতঙ্ক ছড়ালে পুলিশে (Police) খবর দেওয়া হয়।
আরও খবর : তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি!
তরুণীর নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে রীনাকে দেখা যায় হলুদ শাড়ি, সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পরে প্রেমিকের পাশে দাঁড়িয়ে। ভিডিওতে তিনি জানান, “আমি নিজের ইচ্ছাতেই বিয়ে করেছি। আমাকে বা আমার স্বামীকে কেউ যেন বিরক্ত না করেন।” পরের ভিডিওতেও একই বক্তব্য রেখে তিনি বলেন, পরিবারের চাপেই তাঁকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল, তাই তিনি এই পথ বেছে নেন।
এই ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, রীনা অন্তত তিন মাস ধরে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন। মায়ের ফোন ব্যবহার করে তিনি এক স্থানীয় যুবকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিল। ওই যুবকের খোঁজে ইতিমধ্যে তল্লাশি শুরু করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ (Uttarpradesh Police)। এদিকে রীনার বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপহরণ ও প্রলোভনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশের (Police) প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাড়ি ছাড়ার আগে রীনা শেশনাগ মন্দিরে গিয়েছিলেন। পরে দাবি করেছিলেন, তিনি স্বপ্নে বারবার সাপ দেখতেন। তদন্তকারীদের মতে, এই ‘নাগিন’ নাটক আসলে পরিকল্পিত। প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি সাপের খোলস রেখে রহস্য তৈরি করেছিলেন। এই গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে পলিশের তরফে।
দেখুন অন্য খবর :
